
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬FIFA World Cup 2026-এর রাউন্ড অফ ৩২ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গেই আপামর বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন, কোন দেশ জিততে পারে এবারের বিশ্বকাপ। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন কে হতে পারে, তা জানতে ১ লক্ষ কম্পিউটার সিমুলেশন চালিয়েছেন একদল পরিসংখ্যানবিদ। সেই বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ জেতার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে স্পেনের।
কোন দলের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কত?
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১৪.৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স, দু'দলেরই সম্ভাবনা ১২.৪ শতাংশ। জার্মানি রয়েছে ১১.২ শতাংশ নিয়ে। এছাড়া পর্তুগাল (৮.৯ শতাংশ) এবং আর্জেন্টিনা (৮.২ শতাংশ) অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে। এই বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া দুটি ধাপে করা হয়েছে। প্রথমে পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেলের সঙ্গে বুকমেকারদের পূর্বাভাস এবং ফুটবলারদের ট্রান্সফার মার্কেটের তথ্য মিলিয়ে প্রতিটি দল ও প্লেয়ারের শক্তি নির্ধারণ করা হয়। এরপর একটি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি সম্ভাব্য ম্যাচের ফলাফলের সম্ভাবনা হিসেব করে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই মডেলটি অনেকটা লোডেড ডাইসের মতো। সাধারণ ডাইসে প্রতিটি দিকের সম্ভাবনা সমান হলেও, এখানে প্রতিটি দলের জন্য আলাদা গোল করার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে মেক্সিকোর গড়ে ১.৯ গোল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ০.৭ গোল করার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে। সেই হিসেবে মেক্সিকোর জয়ের সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ, ড্রয়ের সম্ভাবনা ২১ শতাংশ, আর দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৪ শতাংশ।

আমেরিকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ
এই পদ্ধতিতে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সূচি, অতিরিক্ত সময় এবং টাইব্রেকারসহ প্রতিটি সম্ভাব্য ম্যাচের ফল ১ লক্ষ বার সিমুলেশন করা হয়েছে। সেই হিসেব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ৭৮ শতাংশ। তবে নকআউট পর্বে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনাল জিতে আমেরিকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।
এই মডেল তৈরিতে গত আট বছরের আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফল, বুকমেকারদের অডস, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের পারফর্ম্যান্স, ট্রান্সফার মার্কেটের বাজাদর, ফিফা র্যাঙ্কিং, চলতি বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে খেলা ফুটবলারের সংখ্যা এবং মাথাপিছু জিডিপির মতো সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এই গবেষণার অন্যতম সদস্য আখিম জাইলিস জানিয়েছেন, তাঁর দল অতীতের একাধিক বড় টুর্নামেন্টেরও সফল পূর্বাভাস দিয়েছিল। ২০১৯ সালের মহিলা বিশ্বকাপে তারা সঠিকভাবে আমেরিকাকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। যদিও ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এবং ২০২৩ মহিলা বিশ্বকাপে স্পেন সবচেয়ে বড় ফেভারিট ছিল না, তবুও তাদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। জাইলিস মজা করে বলেন, 'এই মডেল হয়তো শতভাগ নিশ্চিতভাবে চ্যাম্পিয়নের নাম বলতে পারবে না, কিন্তু আট পা ওয়ালা অক্টোপাসের চেয়ে ভাল ভবিষ্যদ্বাণী করতেই পারে।'