গোল্ডেন বুটের দাবিদার কারাকার হাতে উঠবে সোনার বুট (Golden Boot 2025-26)? ফুটবল বিশ্বে আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ও চর্চার বিষয়। তিনটি নামেই আপাতত বাজি ধরা হচ্ছে। স্পটলাইটে কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেন ও আরলিং হালান্ড। গোল্ডেন বুট এমন একটি সম্মান, যা দেওয়ার আগে প্রতিটি গোলকে সূক্ষ্ম ভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে শুধুমাত্র গোল সংখ্যাই এ ক্ষেত্রে একমাত্র বিচার্য নয়।
শুধু গোল সংখ্যায় একনম্বরে থাকলেই সোনার বুট মেলে না
ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ঘরোয়া লিগগুলিতে সবচেয়ে প্রোলিফিক স্কোরারের ঝুলিতে ওঠে এই গোল্ডেন বুট। কিন্তু শুধু সংখ্যার বিচারে এই সম্মান মেলে না। সংশ্লিষ্ট লিগ কতটা কঠিন, তার উপরে মূলত নির্ভর করে গোল্ডেন বুট দেওয়ার সিস্টেম। কোন লিগে গোল করা হয়েছে, সেটাও এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও বুন্দেশ লিগা করা প্রতিটি গোলের মান ধরা হয় ২.০ গুণ। এই প্রেক্ষিতে দেখলে, এই তিনজন সুপারস্টারের গোলসংখ্যাই বুঝিয়ে দেয়, কেন এই পুরস্কার নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁরাই রয়েছেন।
তিনটি গোল মেশিন, একটি বুট
বেয়ার্ন মিউখিনের অ্যাটাকিং লিডার হ্যারি কেনের গোল সংখ্যা ২১। জার্মান ফুটবলে দাপটের সঙ্গে রাজ করছেন ইংল্যান্ড দলের ক্যাপ্টেন। তাঁর মারাত্মক গোল করার ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট আর সতীর্থদের সঙ্গে দুর্দান্ত বোঝাপড়া। তিনি শুধু বক্সের ভেতরে দাঁড়িয়ে গোল করা স্ট্রাইকার নন, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করেন।
হ্যারি কেনকে কড়া টক্কর দিচ্ছেন ফ্রান্সের গোল মেশিন কিলিয়ান এমবাপে। তাঁরও ২১টি গোল। রিয়েল মাদ্রিদে সর্বোচ্চ গোলদাতা। এমবাপে এখনও বিধ্বংসী। দুরন্ত গতি, তীক্ষ্ণ গোলের গন্ধ পাওয়া বুদ্ধি আর গোলের সামনে হিমশীতল মস্কিষ্ক, সব মিলিয়ে তিনি ভয় ধরান প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকেই হোক বা মিডফিল্ড দিয়ে খেলেই হোক, প্রতিবারই তিনি এমনভাবে জায়গা খুঁজে নেন যে ডিফেন্স ভেঙে পড়তে বাধ্য হয়।
আরলিং হালান্ড এঁদের দুজনের চেয়ে মাত্র ১টি গোল পিছিয়ে। তাঁর গোল সংখ্যা এই সিজনে ২০। নরওয়ের তারকা হালান্ড ম্যাঞ্চেস্টার সিটির পাওয়ারহাউস। শারীরিক শক্তি, নিখুঁত জায়গা বাছাই আর ভয়ঙ্কর গোলের খিদে, সব মিলিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ স্ট্রাইকার বললে হালান্ডকেই ধরা হয়। ম্যাচে খুব একটা চোখে না পড়লেও, একটা মাত্র সুযোগ পেলেও তিনি তাতেই গোল করে দেন।
গোল্ডেন বুট শুধুই একটি ব্যক্তিগত ট্রফি নয়, ইউরোপিয়ান ফুটবলে সবচেয়ে খতরনাক প্লেয়ার হিসেবে চিহ্নিত হন, যাঁর হাতে এই বুট ওঠে। এমবাপে চান নিজের রাজত্বটা আরও পোক্ত করতে। প্রমাণ করতে চান, তিনিই ইউরোপের সবচেয়ে সম্পূর্ণ স্ট্রাইকার। আর হালান্ড ছুটছেন আরও একটা বড় স্বীকৃতির পিছনে, যাতে তাঁর সময়কাল আরও মজবুত ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোদ্দা বিষয়টি স্পষ্ট, একটি সোনার বুটের লক্ষ্যে তিন তারকা। তিনজনেই দুর্দান্ত।