লাল কার্ড আলমিরনকেতাঁর পা থেকে আসেনি কোনও কড়া ট্যাকেল। আপাত দৃষ্টিতে, খেলার কোনও নয়মই ভঙ্গ করতে দেখা যায়নি। তবুও কেন লালকার্ড দেখে বাইরে চলে যেতে হল প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনকে? সাধারণ দর্শকদের মনেও এ প্রশ্ন জেগেছে। হঠাৎ করে লাল কার্ড দেখায় প্যারাগুয়ের সমর্থকরা তা মেনে নিতে পারেননি। আসলে নিয়মে বদল হয়েছে। সে কারণেই লাল কার্ড দেখতে হয়েছে প্যারাগুয়ের তারকাকে।
কী হয়েছে?
ঘটনার কেন্দ্রে আলমিরনের মুখ ঢেকে কথা বলা। তুরস্কের মের্দ মুরদুলের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন প্যারাগুয়ের এই মিডফিল্ডার। আর সেটিই তাঁকে ইতিহাসের অংশ বানিয়েছে। ফুটবলের নতুন নিয়মে মুখ ঢেকে কথা বলার দায়ে লাল কার্ড দেখা প্রথম খেলোয়াড় এখন আলমিরন। কিন্তু কেন এমন নিয়ম? মুখ আড়াল করে কয়েকটি কথা বলার সঙ্গে লাল কার্ডের সম্পর্কই বা কী?
ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের কানে কানে কিছু বলা নতুন কিছু নয়। উত্তেজনা, স্লেজিং, মানসিক চাপ তৈরি—সবই খেলার অংশ হিসেবে বহু বছর ধরেই দেখা যায়। কিন্তু যখন কোনো খেলোয়াড় কথা বলার সময় নিজের মুখ জার্সি বা হাত দিয়ে ঢেকে ফেলেন, তখন সন্দেহ তৈরি হয় আসলে কী বলা হচ্ছে, কেন তা গোপন রাখা হচ্ছে? এই প্রশ্ন থেকেই বিশ্ব ফুটবলের আইনপ্রণেতারা নতুন এক নিয়মের পথে হেঁটেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে ফুটবলারদের লাল কার্ড দেখানোর বিধান কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম নিয়ে কী মত ফিফার?
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য মূলত প্রতিরোধ তৈরি করা। তাঁর যুক্তি, কোনো খেলোয়াড় যদি এমন কিছু বলেন যা প্রকাশ্যে বললে সমস্যা হতো, তখনই তিনি মুখ ঢাকার প্রয়োজন অনুভব করেন। ইনফান্তিনো তাই প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘লুকানোর কিছু না থাকলে মুখ ঢাকারও প্রয়োজন নেই।’ ফলে মুখ ঢেকে কথা বলার অভ্যাসটিকেই নিরুৎসাহিত করতে চায় সংস্থাটি।
তবে মুখ ঢুকলেই যে লাল কার্ড দেখানো হবে, বিষয়টি তেমন নয়। ফুটবলের আইন প্রণয়ন সংস্থা আইএফএবি বলেছে, প্রতিটি পরিস্থিতি রেফারির বিবেচনায় মূল্যায়িত হবে। রেফারি যদি মনে করেন আচরণটি সন্দেহজনক, উসকানিমূলক বা খেলার স্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকবে। আর সেই শাস্তিটিই আর আলমিরনকে দিয়েছেন এল সালভাদরের রেফারি ইভান বারটন।