ইনফানতিনো ও ইরান দলযুদ্ধের আবহে আসন্ন বিশ্বকাপে আমেরিকায় খেলতে যাবে কিনা তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। তবে এবার এ ব্যাপারে বড় আপডেট দিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, তিনি জানিয়ে দিয়েছেন আমেরিকায় খেলতে আসছে ইরান। তাঁর মতে, ইরান যোগ্য ভাবেই নিজেদের জায়গা আদায় করে নিয়েছে। তাই তাদের খেলা উচিত।
‘সিএনবিসি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, 'ইরান নিশ্চিত ভাবেই খেলতে আসবে। আশা করি খুব শান্ত পরিস্থিতি থাকবে, যাতে ওরা নিজেদের মতো করে খেলবে পারে। কিন্তু ইরানকে খেলতে আসতেই হবে। ওদের ফুটবলারেরা দেশবাসীর প্রতিনিধি। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফুটবলারেরাও খেলতে মরিয়া।'
এই মুহূর্তে আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে উত্তাপ যে পুরোপুরি থেমেছে তা নয়। ইরানের সরকার এখনও বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি শান্ত থাকলে বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করতে পারে ইরান। ইতিমধ্যেই তারা ম্যাচগুলি আমেরিকার বদলে মেক্সিকোর কোনও শহরে দেওয়ার আবেদন করেছে। তা নাকচ করে দিয়েছে ফিফা। এরপরেই ইরানের খেলতে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘'বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত। কিন্তু আমি মনে করি না, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত।’’ জবাবে ইরানের ফুটবল দলের তরফে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, ‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এর নিয়ন্ত্রক ফিফা। কোনও ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের জাতীয় দল তার শক্তি এবং সাহসী ফুটবলারদের সুবাদে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে। সে কারণে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। ইচ্ছা হলেই কেউ ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। বাদ দিতে হলে এমন একটি দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, যারা শুধু আয়োজক। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।’
এরপরেই ফের ইরানের অংশগ্রহন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেছেন, ইরান খেলবে এবারের বিশ্বকাপে। যদিও এখনও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনও বার্তা দেয়া হয়নি।