আর্জেন্টিনা দলের নীল জার্সিফুটবল বিশ্বের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং ঐতিহাসিক দ্বৈরথ হলো আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াই। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যখন এই দুই ফুটবল শক্তি মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন ম্যাচের কৌশল বা খেলোয়াড়দের ফর্মের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে তাদের ম্যাচ জার্সি। ইতিহাসে যে জার্সি নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই, সেই জার্সি পরেই নামতে চাইছেন মেসিরা।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচে লিওনেল মেসির দল তাদের ঐতিহ্যবাহী জার্সির পরিবর্তে সম্পূর্ণ নীল রঙের বিকল্প জার্সি পরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।জার্সি পরিবর্তনের কারণ ও ফিফার অনুমোদন ইংল্যান্ডের মূল জার্সি সাদা এবং আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী হোম জার্সিটিও মূলত সাদা রঙের (সঙ্গে আকাশী ডোরাকাটা)। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের জার্সিতে রঙের এমন মিল থাকলে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদেরও শনাক্ত করতে সমস্যা হতে পারে। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই ফিফা ও ম্যাচ পরিচালকদের তত্ত্বাবধানে আয়োজক কমিটির বৈঠকে দল দুটির জার্সির রঙ চূড়ান্ত করা হয়।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইংল্যান্ড দল তাদের ঐতিহ্যবাহী সাদা হোম কিটই ব্যবহার করবে এবং আর্জেন্টিনা সম্পূর্ণ গাঢ় নীল রঙের (Navy Blue) অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলবে। কুসংস্কার বা ‘কাবালা’ (Cábala) ফ্যাক্টর আর্জেন্টিনার জার্সির রঙ পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু কৌশলগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং তাদের জাতীয় সংস্কৃতির গভীর প্রভাবও রয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবলে কুসংস্কার বা কুশলী বিশ্বাস ‘কাবালা’ (Cábala) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
সংবাদমাধ্যম ও ফুটবল ভক্তদের মতে, আর্জেন্টিনা নীল জার্সিকে বেশ 'পয়া' বা সৌভাগ্যজনক মনে করে। এর আগে ১৯৮৬ এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের মতো স্মরণীয় ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ডকে হারানোর সময় আর্জেন্টিনা তাদের এই গাঢ় নীল রঙের জার্সিটিই পরেছিল। ইতিহাস ও সৌভাগ্যের কথা মাথায় রেখে এবং আগের সেই স্মৃতি জাগাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) ফিফার কাছে নীল জার্সিতে খেলার বিশেষ অনুরোধ করেছিল, যা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দল পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের সাদা জার্সি পরেই দারুণ ছন্দে খেলেছে। এই সেমিফাইনালেও থ্রি লায়ন্সরা নিজেদের হোম জার্সি পরেই নামবে। পুরো টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া আর্জেন্টিনা তাদের হোম কিটই পরেছিল। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সিতে আলবিসেলেস্তেদের মাঠে নামা নিশ্চিতভাবেই ম্যাচটিতে একটি ভিন্ন মাত্রা ও আবেগ যোগ করেছে।