এই ফ্রেমে লিওনেল মেসি। (গেটি)অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে ফেলল নীল-সাদা ব্রিগেড। প্রত্যাশিতভাবেই জোড়া গোলে চাপা পড়ে গেল এল এম টেনের পেনাল্টি মিসের ব্যর্থতাও।
দুই ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাড়াল পাঁচ। আর বিশ্বকাপে গোলের নিরিখে সংখ্যাটা ১৮। লিওনেল মেসিকে যদিও এ সমস্ত রেকর্ড দিয়ে মাপা যায় না। তিনি বোধহয় এ গ্রহের নন। এখনও অবধি আর্জেন্টিনার পাঁচটা গোলই এসেছে মেসির পা থেকেই। এদিনও খুব বেশি সুযোগ অস্ট্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। মেসি শুরুতে পেনাল্টি পেয়ে গেলেও, গোল করতে পারেননি।
৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। গোল সেই মেসির বাঁ পা থেকে। বাঁ দিক থেকে উঠে এসে কিছুটা পেছনের দিকে ক্রস বাড়ান মেদিনা। বল চলে আসে মেসির পায়ে। বাঁ পায়ে গড়ানো শটে বল জালে জড়ান। এরপর গোটা ম্যাচে বেশ কয়েকবার সুযোগ এসেছে ব্যবধান বাড়ানোর। তবে সফল হয়নি আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খেলার গতি কিছুটা বদলায়। শুধু রক্ষণ আগলে বসে না থেকে পালটা আক্রমণ শানানো শুরু করে অস্ট্রিয়াও। মাঝে মাঝে দু-একটা ভালো সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। যদিও পরিষ্কার সুযোগ অস্ট্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। একটি ফ্রি-কিক থেকে কঠিন একটি সেভ করা ছাড়া আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে বিশেষ কিছু করতে হয়নি। উলটে গোটা দুই সুযোগ পায় নীল-সাদা ব্রিগেডই। যদিও তাতে গোল আসেনি। দ্বিতীয় গোলটির জন্য নীল-সাদা ব্রিগেডকে অপেক্ষা করতে হল একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। শেষদিকে গোটা অস্ট্রিয়া দল যখন গোল শোধের চেষ্টায় আক্রমণভাগে, তখন পালটা আক্রমণে অনবদ্য গোল করে গেলেন সেই মেসিই। বিশ্বকাপে এটি তাঁর ১৮তম গোল। লিওর ওই গোলই আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত করে দিল। বস্তুত, প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও আর্জেন্টিনা শুধু মেসিময়। তবে লিওর ওই ম্যাজিক মোমেন্টগুলি বাদ দিলে-বাকি দল এদিন আহামরি ফুটবল খেলেনি। নকআউটের আগে সেটাই চিন্তায় রাখবে স্কালোনিকে।
দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল—৩৭ বছর বয়সেও মেসি বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ তার মঞ্চ। সামনে গ্রুপের শেষ ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে, তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মেসিকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।