লিওনেল মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হয়, যিনি তার ড্রিবলিং, দূরদৃষ্টি এবং মারাত্মক বাঁ পায়ের জন্য পরিচিত।তিন লেজেন্ড পরপর বিদায় নিয়েছেন আগেই। মঙ্গলবার রাতে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, তাতে মনে হচ্ছিল, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাও কি বিদায় নেবে? ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ঝড়ে শেষ মিশরের সাম্রাজ্য। তবে দুই গোলে পিছিউয়ে পড়া ম্যাচ বের করার ক্ষেত্রে সমতা ফেরানোর কৃতিত্ব মেসির। পেনাল্টি থেকে গোল না পেলেও, একেবারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় গোল তাঁর।
মিশরকে এগিয়ে দেন ইয়াসের ইব্রাহিম
১৫ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মারওয়ান আতিয়া দারুণ একটি ক্রস বাড়ান। সেই বলে দুর্দান্তভাবে লাফিয়ে উঠে হেড করেন ইয়াসের ইব্রাহিম, আর বল জড়িয়ে যায় আর্জেন্টিনার জালে। গোললাইনেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি তিনি। ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মিশর।
পেনাল্টি মিস মেসির
২১ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে স্পট-কিক নিতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি ডান দিকে শট নেন, কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর একই দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত সেভ করেন। গ্যালারিতে নেমে আসে স্তব্ধতা। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস, আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা।
ব্যবধান বাড়ায় মিশর
দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় মিশর। ৬৭ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল টেনে নিয়ে দুর্দান্ত দৌড় শুরু করেন হাইসেম হাসান। এরপর তিনি বল বাড়ান মহম্মদ সালার কাছে। সালাহ কিছুক্ষণ বল ধরে রেখে সতীর্থদের ওঠার অপেক্ষা করেন, তারপর আবারও হাসানকে পাস দেন। হাসান এবার নিখুঁত একটি ক্রস বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝখানে থাকা জিকোর উদ্দেশে। জিকো প্রথম ছোঁয়াতেই জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন। আগেরবার ভিএআরে গোল বাতিল হলেও এবার আর কোনো বাধা আসেনি—রেফারি গোলের সংকেত দেন।
অ্যাসিস্ট মেসির
৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস ডান দিক থেকে উড়ে আসে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর কাছে। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে আরেকটি ঐতিহাসিক কীর্তিও গড়লেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের সংখ্যায় দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে নতুন আর্জেন্টাইন রেকর্ডের মালিক হলেন। এখন স্কোর, মিশর ২-১ আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর অল্প সময় বাকি, তাই শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সমতা ফেরান মেসি
৮৩ মিনিটে গনসালো মন্টিয়েলের বাড়ানো পাস বক্সের ভেতরে পান লিওনেল মেসি। এক মুহূর্তও দেরি না করে প্রথম ছোঁয়াতেই জোরালো শট নেন তিনি। বল জড়িয়ে যায় জালে, আর মুহূর্তেই সমতায় ফেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে গ্যালারিতে মিশরের সমর্থকদের উল্লাস ছিল তুঙ্গে, এখন সেখানে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দে ফেটে পড়েছে পুরো স্টেডিয়াম। শেষ মুহূর্তে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন—এই ম্যাচ এখন রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে!
জয় আনল এনজোর গোল
দ্রুত প্রতি আক্রমণে উঠে এল আর্জেন্টিনা। ডানদিক থেকে একটি ক্রস বাড়ালেন লাউতারো মার্তিনেজ। সেই ভাসানো বলে একটা নিখুঁত হেড করলেন এনজো ফার্নান্ডেজ। মিশর গোলরক্ষকের সামনে বল ধরার কোনও সুযোগই ছিল না।