Mohun Bagan IFA Shield : জেলজকোভিচের গোলেই বাজিমাত, ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ফের শিল্ড জয় মোহনবাগানের

প্রথম থেকেই ম্যাচে আগ্রাসী ছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ১০ মিনিটে একাধিকবার মোহনবাগানের রক্ষণে চাপ তৈরি করে লাল-হলুদ। ৬ মিনিটে এডমন্ড লালরিন্দিকার দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

Advertisement
জেলজকোভিচের গোলেই বাজিমাত, ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ফের শিল্ড জয় মোহনবাগানেরIFA শিল্ড জয়ী মোহনবাগান
হাইলাইটস
  • এরপর প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল
  • ৪৫ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের দুর্দান্ত চিপ করা বল বক্সের মধ্যে পেয়ে যান সামির জেলজকোভিচ

কলকাতা ডার্বিতে ফের বাজিমাত মোহনবাগানের। ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ সালের আইএফএ শিল্ডের চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাইভোল্টেজ ফাইনালে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে সামির জেলজকোভিচের করা গোলই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিল। এই জয়ের ফলে শিল্ডের ইতিহাসে মোহনবাগানের ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল ২২।

প্রথম থেকেই ম্যাচে আগ্রাসী ছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ১০ মিনিটে একাধিকবার মোহনবাগানের রক্ষণে চাপ তৈরি করে লাল-হলুদ। ৬ মিনিটে এডমন্ড লালরিন্দিকার দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বক্সে ঢুকে একেবারে একা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ বাঁ পা বাড়িয়ে দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদের হাত থেকে বাঁচান। 

১২ মিনিটে আবার সুযোগ আসে ইস্টবেঙ্গলের সামনে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকেছিলেন বিপিন সিং। কিন্তু তাঁর বাঁ পায়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের দাপট থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে মোহনবাগান।

১৫ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় সবুজ-মেরুন। এরউইন বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ে শট নেন। তবে ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা সহজেই তা ধরে ফেলেন। ১৯ মিনিটে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের দুরন্ত দৌড়ও ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করে। বক্সে ঢুকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে শট নিতে পারেননি তিনি।

২৪ মিনিটে ফের গোলের কাছাকাছি চলে যায় মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের বক্সে ভেসে আসা বলে মাথা ছোঁয়ান মেহতাব সিং। কিন্তু তাঁর হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ম্যাচের ৩৫ মিনিটের পর ছবিটা আরও বদলে যায়। ইস্টবেঙ্গলের প্রাথমিক চাপ সামলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে মোহনবাগান। ৩৭ মিনিটে পরপর দু’টি দুর্দান্ত শট গোলে রেখেছিলেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই অসাধারণ সেভ করে ইস্টবেঙ্গলকে বাঁচান ফুরবা লাচেনপা।

এরপর প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ৪৫ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের দুর্দান্ত চিপ করা বল বক্সের মধ্যে পেয়ে যান সামির জেলজকোভিচ। বুক দিয়ে বল নামিয়ে ঠান্ডা মাথায় ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। প্রথমার্ধের শেষেও সেই ব্যবধান বজায় থাকে।

Advertisement

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরানোর চেষ্টা শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। ৫০ মিনিটে কর্নার পেলেও তা থেকে কোনও বিপদ তৈরি করতে পারেনি লাল-হলুদ। মোহনবাগানের রক্ষণ সহজেই বল ক্লিয়ার করে দেয়।

৫৮ মিনিটে মাথায় সংঘর্ষের পর চোট পান সন্দীপ মান্ডি। ড্রাজিচের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দু’জনই মাঠে পড়ে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয়। পরে রেফারি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

৬৬ মিনিটে মোহনবাগান সাহাল আবদুল সামাদকে তুলে তাঁর জায়গায় নামায় মনবীর সিংকে। প্রথমার্ধে জেলজকোভিচের গোলের পিছনে সাহালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করেছে ইস্টবেঙ্গল। ৭৭ মিনিটে দ্বিতীয় এবং শেষ হাইড্রেশন ব্রেক নেওয়া হয়। তখনও ১-০ গোলে এগিয়ে মোহনবাগান। লাল-হলুদের হাতে ছিল সমতা ফেরানোর জন্য ১৩ মিনিটের কিছু বেশি সময়।

৮৪ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় ইস্টবেঙ্গল। সেই সময় আরনদ লোবা ফাউলের শিকার হন। ফ্রি-কিকের সময় মোহনবাগানের গোলদাতা জেলজকোভিচও সতীর্থদের সঙ্গে ওয়াল তৈরি করার সময় আঘাত পান।

৮৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দানি রামিরেজের ভাসানো বল বক্সে পৌঁছলে লুকাস জভোলিনস্কি মাথা ছোঁয়ান। কিন্তু পরিষ্কারভাবে সংযোগ করতে না পারায় বল জালে জড়ায়নি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সাত মিনিট সময় যোগ করেন রেফারি। সেই সময়েও ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ চালিয়ে যায়। ৯০+৫ মিনিটে পরপর দু’টি কর্নারও পায় লাল-হলুদ। কিন্তু মোহনবাগানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।

শেষ পর্যন্ত রেফারির বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সবুজ-মেরুন শিবির। ১-০ ব্যবধানে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে এই ট্রফি ধরে রাখল মোহনবাগান। 

POST A COMMENT
Advertisement