
২০২৬ সালের মিলান-কর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিক শুরু হতেই আয়োজকদের সামনে তৈরি হয়েছে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। প্রতিযোগিতার প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাথলিট ভিলেজে সরবরাহ করা বিনামূল্যের কন্ডোমের প্রাথমিক মজুত শেষ হয়ে গেছে। দেওয়া হয়েছিল ১০ হাজার প্যাকেট, কিন্তু মাত্র তিন দিনেই তা উধাও। ফলে দ্রুত নতুন করে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আয়োজক কমিটি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রীড়াবিদদের জন্য অতিরিক্ত কন্ডোম সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং গেমস চলাকালীন বিতরণ অব্যাহত থাকবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ পুরোপুরি ঘাটতি মিটবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।
কীভাবে তৈরি হল এই ঘাটতি?
অ্যাথলিট ভিলেজটি ইতালির কর্টিনা ডি'আম্পেজ্জো-তে অবস্থিত। প্রায় ২,৯০০ ক্রীড়াবিদের জন্য শুরুতে ৯,৭০০টির বেশি কন্ডোম রাখা হয়েছিল, প্রয়োজনে আরও দেওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু চাহিদা এত দ্রুত বাড়ে যে কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো মজুত শেষ হয়ে যায়।
অলিম্পিক ভিলেজে সাধারণত মডুলার আবাসন, শেয়ার করা কমন স্পেস এবং সীমিত ব্যক্তিগত পরিসর থাকে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদরা সেখানে কয়েক সপ্তাহ একসঙ্গে থাকেন। ফলে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সম্ভাবনা যেমন থাকে, তেমনই সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদাও বেশি হয়।
আগের অলিম্পিকের তুলনায় কম সরবরাহ
অলিম্পিক গ্রামে বিনামূল্যে কন্ডোম দেওয়া বহুদিনের প্রচলিত রীতি। এর উদ্দেশ্য নিরাপদ যৌন আচরণ ও যৌনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি।
তুলনায় দেখা যায়, প্যারিস গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক-এ প্রায় ১০,৫০০ অংশগ্রহণকারীর জন্য ২ লক্ষ পুরুষ এবং ২০ হাজার মহিলা কন্ডোম সরবরাহ করা হয়েছিল। অতীতে কিছু অলিম্পিকে এই সংখ্যা ৩ লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সেই তুলনায় মিলান-কর্টিনায় মাত্র ১০ হাজার কন্ডোমের প্রাথমিক বরাদ্দ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় টোকিও অলিম্পিক-এ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা নিরুৎসাহিত করতে নানা বিধিনিষেধ জারি ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় চাহিদাও বেড়েছে স্বাভাবিকভাবেই।
সব মিলিয়ে, প্রাথমিক পরিকল্পনায় সরবরাহ কম রাখাই এই সংকটের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আয়োজকেরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, তবু ঘটনাটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।