scorecardresearch
 

কাদের হাত ধরে কাটল হকিতে পদকের খরা ? এবেলা তাঁদের চিনে রাখুন

৪১ বছরের খরা কাটিয়ে অলিম্পিকে (Olympic) পদক। ভারতীয় হকি(Hockey)তে খুশির হাওয়া। ভারত (India), জার্মানিকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। ভারতের জন্য ঐতিহাসিক(History) মুহূর্ত। গোটা দেশের হকি জগতের জন্য প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এখন হিরো(Hero)। হিরোদের চেনেন কী ! চিনে নিন।

ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে
হাইলাইটস
  • হকিতে পদকের খরা কাটল ভারতের
  • ব্রোঞ্জ পদকে উচ্ছ্বাস দেশজুড়ে
  • চিনে নিন ভারতীয় খেলোয়াড়দের

ভারতীয় পুরুষ হকি টিম টোকিও অলিম্পিকে ইতিহাস তৈরি করল। ৪১ বছর পর মূলপর্বে সেমিফাইনালে উঠেছেন। আশা জাগিয়েও থাকতে ব্যর্থ হলেও শেষমেষ শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে ৫-৪ গোলে জিতে পদক তুলে নিলেন। ভারতীয় দল এই লড়াইয়ে প্রথমেই পিছিয়ে গেলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই ফিরিয়ে দিয়েছে।ভারতীয় দলের এই সদস্যদের সৌজন্যেই বহু বছর পর ফের বিশ্ব হকিতে ভারতীয় পতাকা উঁচুতে উড়তে দেখা গিয়েছে। ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করে রাখতে আনন্দে আত্মহারা খেলোয়াড়রা নিজেরাও প্রতিটি মূহূর্ত উপভোগ করছেন।

হকি


আসলে হিরোদের চিনে নেওয়া যাক


মনপ্রীত সিং

অধিনায়ক। ২৯বছর বয়সী মনপ্রীত সিং ১০ বছর আগে ১৯ বছর বয়সেই ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। তারপর থেকে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে ভারতকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। বিপক্ষ দলের ডিফেন্স চিরে তাঁর থ্রু সমীহ জাগানোর মতো।

পিআর শ্রীজেশ

সবচেয়ে সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। শ্রীজেশ অলিম্পিকে তাঁর একক দক্ষতা দলকে নির্ভরযোগ্যতা দিয়েছেন। গোটা দেশে যাঁরা তাঁকে চিনতেন না, তাঁরাও চিনে ফেলেছেন। গোলরক্ষক হিসেবে গোল আটকে ভারতীয় দলকে পদকের রাস্তায় রেখেছিলেন। ভারতীয় হকি দলের দৌড়ে ২০১৬ সালে ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। কেরলের ভূমিপুত্র ২০০৬ থেকে ভারতীয় দলের নির্ভরযোগ্য সদস্য।

হরমনপ্রীত সিং

২০১৬ জুনিয়র ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন হারমানপ্রীত সিং। লন্ডন অলিম্পিকে তিনি ভারতীয় দলে খেলেছেন। সেবার অবশ্য দলগত ব্যর্থতায় তার সাফল্য আলাদা করে দেখা যায়নি। জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচে গোল করে দলকে লড়াইয়ে দেখেছেন ভারতীয় দলের পেনাল্টি কর্ণার এক্সপার্ট এর মধ্যে অন্যতম হরমনপ্রীত। 

রুপিন্দর পাল সিং

৩১ বছর বয়সী রুপেন্দ্র পাল সিংকে ভারতীয় দলের ড্র্যাগ স্নিকার বলা হয়। এবার অলিম্পিকেও তিনি তার পেনাল্টি কর্ণার-এর সময় ভারতীয় দলের জন্য একাধিক গোল করেছেন। রুপেন্দ্র ২০১৮ থেকে ভারতীয় দলের সদস্য। তাঁর শারীরিক উচ্চতা তাকে ভারতীয় দলে আলাদা পরিকল্পনার মধ্যে রেখেছে।

সুরেন্দ্র কুমার

হকি ইন্ডিয়া লিগে দিল্লি টিমের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়ার সুরেন্দ্রকুমার টিম ইন্ডিয়ার সুযোগ পেলেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন হরিয়ানার সুরেন্দ্র এশিয়ান গেমস রিও অলিম্পিকে ভারতীয় দলে খেলেছেন ভারতীয় দল যখন সেখানে তিনি তার পরিবারে উৎসবের আবহাওয়া ভারতীয় দলের ডিফেন্সের মেরুদন্ড

অমিত রুহিদাস

২০১৩-তে ভারতীয় দলের প্রথম সুযোগ পান। তিনি অমিতের ক্যারিয়ার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলেছে। ভারতের দলে সুযোগ পাওয়ার পরও তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে হকি ইন্ডিয়া লিগে তিনি নিজের প্রতিভা এবং দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে ফের ২০১৭ সালের দলে ফেরাতে বাধ্য হয়েছেন তিনিও। ভারতীয় দলের নির্ভরযোগ্য সদস্য।

বীরেন্দ্র লাকরা

২০০ ম্যাচ খেলে ফেলা বীরেন্দ্র লাকড়া এটি দ্বিতীয়বার অলিম্পিক খেলছেন। ব্যার্থতা থেকে সফল ইতিহাস অনেকটাই বেশি। আগে লন্ডন অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তার অস্ত্রোপচারের কারণে রিও অলিম্পিক খেলতে পারেননি। উড়িষ্যার এই খাতায়-কলমের ডিফেন্ডার কিন্তু দলের প্রয়োজনে তিনি প্রচুর গোল করেছেন। মিডফিল্ডার পজিশনে রেখে ঢেল সাজানো হয়েছে।


হার্দিক সিং

বাইশ বছরের যুবক ফরওয়ার্ডে এই অলিম্পিকে ভারতের হয়ে নিজের নাম উঁচুতে তুলে ধরেছে। সেমিফাইনালে হার্দিক একের পর এক গোল করে দলকে পদক প্রাপ্তিতে অন্যতম সহায়ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। ২০১৮তে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রিভিউ করা হয় খুব কম সময়ের মধ্যে ভারতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন।


বিবেক সিং প্রসাদ

ট্যালেন্টেড ফিল্ডার বিবেক তার মস্তিষ্ক দিয়ে খেলার জন্য পরিচিত। খুব ধীরে সুস্থে এবং চতুর খেলোয়াড় হিসেবে বিবেক ২০১৮ সালে ১৭ বছর বয়সে ভারতীয় দলে সুযোগ পান। টোকিওতে ফরওয়ার্ড লাইনে খেলেছেন সঙ্গে অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছেন।


নীলকান্ত শর্মা

২০১৬ সালের জুনিয়র হকি ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তখনই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। নীলকান্ত ভারতীয় দলে জায়গা পেতে তার বেশি সময় লাগেনি। মণিপুরের এই খেলোয়াড় ২৬ বছর বয়সী। গত তিন বছরে তিনি বড় বড় সমস্ত টুর্ণামেন্টে ভারতীয় দলের অন্যতম অংশ ছিলেন।


সুমিত বাল্মিকী

পুণ্যতীর্থ হরিয়ানার সাকেটের সুমিত বাল্মিকী। তার দ্রুতগতির দৌড় এবং সঙ্গে এবং কন্ট্রোল ভারতীয় দলে তাঁকে অন্যতম সদস্য হিসেবে সুযোগ করে দিয়েছে। ২০১৬ তে জুনিয়র হিসেবে তিনিও ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন। গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা, ভারতীয় দলে সুযোগ পেতে এবং তাঁকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে।


সমশের সিং

যখন সমশের সিংয়ের নাম রাখা হয়েছিল, তো সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল। মাত্র ২৪ বছর বয়সী শমসের পাঞ্জাবের আটারি বর্ডার এর পাশে একটি ছোট্ট গ্রামে থাকেন। পাকিস্তানের সঙ্গে খুব কাছাকাছি তার সীমানা। শুধু দশটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সমশের সম্পর্কে ভারতীয় দলের সারপ্রাইজ প্যাকেজ।


দিলপ্রীত সিং

পাঞ্জাবের দিলপ্রীত সিং ২০১৮ তে ভারতীয় দলের প্রথম সুযোগ পান। তারপর থেকে তাকে আর বাইরে রাখা যায়নি। একের পর এক টুর্ণামেন্টে নিজের দক্ষতা প্রমাণ দিয়ে দলের নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। এশিয়ান গেমসে দলে ছিলেন। অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র দক্ষতা দিয়ে ভারতীয় দলে নিজের জায়গা রেডি করে নিয়েছেন।

গুরজন্ত সিং

জুনিয়র সেমিফাইনাল জেতেন, তখন গুরজন্ত সিং সবচেয়ে বড় স্টার খেলোয়াড় হয়ে উঠে আসে। এরপর ভারতীয় দলে সুযোগ মেলে টোকিও অলিম্পিকে তিনি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে ভারতীয় দলকে মেডেলের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছেন।


মনদীপ সিং

২৬ বছর বয়সী মনদীপ, ফরোয়ার্ড প্রতিষ্ঠানে খেলেন। ভারতীয় দলের সাফল্যের অন্যতম কারিগর তিনি। গোটা অলিম্পিকে ভারতীয় আক্রমণকে শুরু থেকে ধারালো দেখিয়েছে। মনদীপের জন্যই ২০১২তে ভর্তির সুযোগ পান। হকি ইন্ডিয়া লিগে তিনি অত্যন্ত চমৎকার খেলে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন জাতীয় দলে।