Donald Trump FIFA World Cup: ট্রাম্পের ফোনে ফিফার ভোলবদল! মার্কিন স্ট্রাইকারের শাস্তি মকুব নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব ফুটবলDonald Trump FIFA World Cup: ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখলে সোজা ড্রেসিংরুম, সঙ্গে পরের ম্যাচে নির্বাসন, এটাই ফুটবল দুনিয়ার নিয়ম। কিন্তু মহাশক্তিধর আমেরিকার ক্ষেত্রে যে নিয়ম খাটবে না, তা বোধহয় খোদ ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফাও টের পেয়ে গিয়েছে।মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি রাতারাতি মকুব করে দিয়েছে ফিফা, আর এই ঘটনার পিছনে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত রয়েছে বলে ফুটবল মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও ট্রাম্প নিজে দাবি করেছেন যে তিনি ফিফার ওপর কোনও জোর খাটাননি, শুধু পুরো বিষয়টি একবার খতিয়ে দেখতে বলেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত বসনিয়া ম্যাচে, সেই ম্যাচে আমেরিকার সেরা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে নক-আউট ম্যাচে তাঁর খেলার কোনও সুযোগই ছিল না। কিন্তু ঠিক তার আগেই আসরে নামেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।খবর চাউর হয় ট্রাম্প নিজেই ফোন করেছিলেন ফিফা প্রধান জান্নি ইনফান্তিনোকে। আর সেই ফোনের পরেই ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে বদলে যায় সিদ্ধান্ত। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ধারা ২৭ প্রয়োগ করে বালোগুনের এক ম্যাচের নির্বাসন এক বছরের জন্য স্থগিত করে দেয়। ফলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামতে আর কোনও বাধা থাকে না মার্কিন তারকার।
এই খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুচেল থেকে শুরু করে গ্যারি নেভিল, ওয়েন রুনির মতো প্রাক্তন তারকারা একে চরম পক্ষপাতিত্ব এবং ফুটবল কলঙ্ক বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। অন্য দেশের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত ফিফা কখনও নেয়নি বলে সুর চড়িয়েছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
বিতর্ক দানা বাঁধতেই ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সাফাই পেশ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান যে তিনি স্রেফ খেলাধুলো ভালোবাসেন। তাঁর মতে ওটা কোনও ফাউলই ছিল না। রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বালোগুন আমেরিকার অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাই তিনি ফিফাকে কেবল রিভিউ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবি তিনি ফিফাকে কোনও নির্দেশ দেননি বা চাপ তৈরি করেননি। ফিফা নিজস্ব বিচারবুদ্ধি দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়া খেলা হলে বিশ্বকাপের গায়েই দাগ লেগে যেত। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালেও ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন যে এক মস্ত বড় অবিচারের হাত থেকে ফুটবল রক্ষা পেল।
এদিকে জল অনেক দূর গড়িয়েছে দেখে আসরে নামতে হয়েছে ফিফা প্রধান জিওন্নি ইনফান্তিনোকেও। তিনি এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছেন যে ফিফার বিচার বিভাগীয় কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে। রাজনীতির কোনও যোগ এখানে নেই। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল ঠিকই, তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করা হয়নি। ফিফার এই সাফাই সত্ত্বেও বেলজিয়াম শিবির অবশ্য আইনি লড়াইয়ের পথ খুঁজছে। ট্রাম্পের একটি ফোন আর আমেরিকার ফুটবলারের ওপর থেকে লাল কার্ডের খাঁড়া নেমে যাওয়া নিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় বিতর্ক এখন তুঙ্গে।