নিষিদ্ধ ‘থাই মাগুর’ মাছের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু করেছে বিহার সরকার। Thai Mangur Fish Crackdown: বাজারে মাছ কিনতে গেলে সাবধান! দেখতে অনেকটা দেশি মাগুরের মতো হলেও, এই মাছ কিনলে বাড়তে পারে বিপদ। এমনটাই বলছে প্রশাসন। নিষিদ্ধ ‘থাই মাগুর’ মাছের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু করেছে বিহার সরকার। সে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক হানা দিয়ে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে এই মাছ। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হওয়া মাছ মাটির নিচে পুঁতে নষ্টও করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই মাছ পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করতে পারে।
বিহারের মৎস্য দফতর জানিয়েছে, বহু জায়গায় গোপনে থাই মাগুরের ব্যবসা চলছিল। সেই কারণেই রাজ্য জুড়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ণিয়া জেলার বৈসি এলাকায় বড় অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিপুল পরিমাণ থাই মাগুর সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই মাছ বাজেয়াপ্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই মাছ নিয়ে কীসের চিন্তা?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, থাই মাগুর অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। বিদেশি মাছ। এই মাছ স্থানীয় জলজ প্রাণী এবং দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটে ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই এই মাছের চাষ এবং বিক্রির উপর দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
খাওয়াও অনুচিত
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত বড় করার জন্য থাই মাগুরের চাষে ক্ষতিকর খাবার বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। সেই কারণেই এই মাছ মানুষের শরীরের পক্ষেও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
বিহার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ এই মাছের মজুত, পরিবহণ বা বিক্রির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। আগামী দিনেও এই অভিযান চলবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।
এ দিকে, বাজারে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, থাই মাগুর দেখতে অনেকটাই দেশি মাগুরের মতো। ফলে অনেক সময় সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেন না কোনটা নিষিদ্ধ মাছ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অস্বাভাবিক বড় আকারের বা অত্যন্ত দ্রুত বেড়ে ওঠা মাগুর মাছ কিনতে গেলে সতর্ক থাকা উচিত। সন্দেহ হলে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকেই মাছ কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, শুধু বিহার নয়, দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও থাই মাগুরের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন।