ওই ৪৯টি আসনের মধ্যে ২৩টিতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। তা সত্ত্বেও ২৬টি আসনে বিজেপি জয়ী। তৃণমূল ২১টি আসনে ও কংগ্রেস দুটি আসনে জয়ী। বিজেপি-র এই আসনগুলিতে জয় স্রেফ রাজনৈতিক সাফল্যই নয়, কোন জায়গাগুলিতে বিজেপি জিতল, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
Shankar Ghosh Talk To Chandranath: কথা বলতে বলতে হঠাৎই চন্দ্রনাথের গলাটা জড়িয়ে যায়। কানে আসে গুলির শব্দ। শঙ্করবাবু বারংবার ‘চন্দ্র চন্দ্র’ বলে চিৎকার করলেও ওপার থেকে সাড়া মেলেনি।
বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক হিংসার চরম রূপ দেখল পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার রাতে রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্ত সহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবারও বারাসত মেডিক্যালে যান বিজেপি নেতা। সেখানে শ্রদ্ধা জানান দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথকে। শুভেন্দু স্পষ্ট বলেন, 'আমি ভবানীপুরে না জিতলে ওঁকে হয়তো টার্গেট করা হত না।'
২০১৩ সালে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল প্রদীপ ঝার। তিনি একসময় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক ও রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের ঠিক দু'দিন আগেই হাড়হিম হত্যাকাণ্ড উত্তর ২৪ পরগনায়। মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে নিহত চন্দ্রনাথ রথ। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করা হয়েছে। রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫-এর মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তারপর ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে সিট গঠন করে তদন্তও শুরু হয়েছে। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর থেকে কী কী ঘটল এখনও পর্যন্ত চলুন জেনে নেওয়া যাক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথ মধ্যমগ্রাম এলাকা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল তাঁকে ধাওয়া করতে শুরু করে। জানা গেছে, ধাওয়াকারী গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়িকে ওভারটেক করে, যার ফলে তিনি গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন। এরই মধ্যে, বাইকে আসা হামলাকারীরা খুব কাছে এসে প্রায় চার রাউন্ড গুলি চালায়। চন্দ্রনাথ রথের বুকে, পেটে ও মাথায় গুলি লাগে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় গাড়ির চালকও আহত হন এবং কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাংলার ভোটের আবহে রাজ্যের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা হিসাবে কর্মরত ছিল ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা I-PAC. আর্থিক দুর্নীতি মামলায় কলকাতায় আইপ্যাকের এবং সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল। এই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সই সময় খোদ মমতা ব্যানার্জী ইডির রেড চলাকালীন পৌঁছে গিয়ে ফাইল ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছিনিয়ে নিয়ে আসেন। যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। এরপর ভোটের মুখে চাউর হয়ে যায় IPAC তাদের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন অনেকেই এটিকে বড় রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখতে শুরু করেন। নির্বাচনের ঠিক আগে একটি বড় ক্যাম্পেইন সংস্থা যদি কাজ থামিয়ে দেয়, তাহলে তা যে কোনও দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তৃণমূল কি কোনও বড় কৌশলগত সমস্যায় পড়েছে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও চাপ কাজ করছে?
শুধু বিজেপি বিরোধীরাই নন, সৌরভকে নিশানা করছেন ভক্তরাও। ইনস্টাগ্রামে একজন ইউজার লিখেছেন, 'পাক্কা সুযোগ সন্ধানী স্বার্থপর লোক। যেই দেখল হাওয়া ঘুরে গেল, তখনই বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিল।'
বুধবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ৮০ জন জয়ী বিধায়ককে ডেকেছিলেন কালীঘাটের বাড়িতে মিটিংয়ে। ৬৯ জন উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পদে এখনও ইস্তফা দেননি মমতা। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে আপাতত তিনি বিধায়কও নন।
ভোটের ফল বেরোতেই বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন মনোজ তিওয়ারি। তাঁর মুখে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।
ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি শিবির। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বার্তা দিয়েছেন খোদ বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাফ জানিয়েছেন তিনি। শমীক বলছে, বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে। কেউ গণ্ডগোলে জড়িত থাকলে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল। তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। ইতিমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে বিজেপি শিবির। ব্যারকপুরে তৃণমূলের দখল করা অফিস কংগ্রেসকে ফিরিয়ে দিয়ে নজির গড়ল গেরুয়া শিবির।