বিটকয়েন-ইথেরিয়াম/প্রতীকী ছবিসংবাদপত্রের পাতা ভরে বিজ্ঞাপন, কখনও আবার টেলিভিশনের পর্দায়। রমরম করে বিজ্ঞাপন চলছে ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency) বিটকয়েনের (Bitcoin)। ডিজিটাল মুদ্রায় (Digital Coin) লেনদেনও বাড়ছে সমান তালে। গত পাঁচবছরে অনেক বেশি লাভের মুখ দেখেছে নিয়ন্ত্রণহীন ক্রিপ্টোকারেন্সি- বিটকয়েন, ইথেরিয়াম। ব্লক চেনের অংশীদার হতে অর্থ লাগাচ্ছেন অনেকেই। লাভের মুখও দেখছেন অনেকে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন এই ডিজিটাল মাধ্যমে বিনিয়োগ করে ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে না তো গ্রাহকদের?
২০১৭-র পর থেকে ধীরে ধীরে চাঙ্গা হয়েছে বিটকয়েন, ইথেরিয়ামের বাজার। বিটকয়েন এখন আকাশ ছুঁয়েছে। এই মুনাফা দেখে তরুণ প্রজন্ম বিপুলভাবে অর্থ জমা রাখতে শুরু করেছে। মিউচুয়াল ফান্ড ভেঙে, ব্যাঙ্কের গচ্ছিত টাকা নিয়ে ডিজিটাল মুদ্রায় বিনিয়োগ করছে। যা নিয়ে চিন্তায় সংশ্লিষ্ট মহল। ক্রেতা বা গ্রাহকরা বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়লে এর দায় নেবে কে?
উল্লেখ্য,২০১৯-এর জুলাইয়ে ভারতে বিটকয়েন-সহ সমস্ত ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনকারী সংস্থাগুলির ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ঠিকানাগুলি ব্লক করারও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও, এরপর তাতে সবুজ সঙ্কেত পড়লেও ক্রিপ্টো দিয়ে বাজারে জিনিস কেনা বেচাকে মান্যতা দেয়নি কেন্দ্র। পাল্টা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা আনার পরিকল্পনা করতে থাকে। এরসঙ্গে এই প্রশ্ন উঠে আসে যদি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডিজিটাল মুদ্রা আনে তবে কি তা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারবে? এদিকে, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল মুদ্রায় পণ্য কেনা, বেচাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
যে ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে
মুদ্রা বা অর্থ সঞ্চয়ে ভারতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। গ্রাহকদের তথ্য রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে। গ্রাহকদের অর্থ চোট গেলে সব দায় আরবিআইয়ের। ক্রিপ্টোতে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি গ্রাহকের যাবতীয় তথ্য পরিচালনা হয় কোড দিয়ে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অধীনে যেহেতু নেই, তাই টাকা চোট গেলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে গ্রাহকরা।
অনেক ক্ষেত্রে, কিছু ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থা বিটকয়েনকে সামনে রেখে ডিজিটাল মুদ্রায় বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করছে। ডিজিটাল কয়েনে না দিতে হয় কর, না আছে সরকারি হস্তক্ষেপ। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিজের ডিজিটাল মুদ্রা আনলে, বিটকয়েন, ইথেরিয়ামের মতো কয়েনগুলি তখনও সমানভাবে বৈধতা পাবে কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে।