ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের শংসাপত্র নিয়ে ময়ূখ ভট্টাচার্যপরিবারের সদস্যরা একরত্তির দুষ্টুমি থামাতে কিনে দিয়েছিলেন ক্যাসেট। 'ভানু এল কলকাতায়'। আর সে মজে গিয়েছিল তাতে। শুনতে শুনতে কখন যে তা নকল করতে শুরু করে দিয়েছিল, মনে নেই। তবে তা আর থামেনি।
সেই গুণ নতুন করে স্বীকৃতি পেল বুধবার। ১ মিনিটে ২২ জনের গলা নকল করে রেকর্ড গড়লেন। ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলে ফেললেন জলপাইগুড়ির ময়ূখ ভট্টাচার্য।
জুলাই মাসে আবেদন
বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি এখন শস্যবিজ্ঞান নিয়ে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের লেখাপড়া করছেন।
তিনি বলেন, "১২ জুলাই আবেদন করি। নিজের কনটেন্ট পাঠাই। পুরো জিনিস খতিয়ে দেখতে এবং স্বীকৃতি দিতে দেড় মাস লাগে। বুধবার তার শংসাপত্র পেয়েছি।"
শুরুর শুরু
তখন দ্বিতীয় কী তৃতীয় শ্রেণর পড়ুয়া। জলপাইগুড়ি শিশুনিকেতনের ছাত্র। তবে মোটেই শান্ত নয়। তাকে চুপ করাতে দেওয়া হল হাসির খোরাক, 'ভানু এল কলকাতায় ক্যাসেট'। জ্যেঠুর এনে দেওয়া। সেটা শুনতে লাগল।
আর কবে যে সেগুলো মুখস্ত হয়ে যায়, খেয়াল নেই। তারপর সেগুলো স্কুলে বলতে থাকে। আধো-আধো বুলিতে দারুণ লাগত সবার। প্রধানশিক্ষিকা তারিফ করেছিলেন। শিক্ষকরা ডেকে নিয়ে যেতেন তাঁর কথা শুনবেন বলে!
এখন তিনি বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন। স্নাতক স্তরে সেখানেই লেখাপড়া করেছিলেন। বাড়িতে রয়েছেন মা-বাবা।
ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম কেন?
ময়ূখ জানান, ১ মিনিটে ২২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির গলা নকল করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, ফারহান আখতার, রাজকুমার, সচিন, ধর্মেন্দ্র, নানা পাটেকর, সানি দেওলের মতো খ্য়াতনামা ব্যক্তিত্ব।
ইচ্ছা গবেষণার
তিনি বলেন, "এটা শখে করা। পেশা করার ইচ্ছা নেই। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যাই। সিনেমা তৈরি করি। তবে লেখাপড়া-গবেষণা নিয়ে থাকতে চাই।"
পরিচিতদের নকল
কলেজের অধ্যাপক থেকে শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য- কেউই বাদ যাননি। তাঁদের সবার গলা নকল করেছিলাম। সব সময় করি। সবারই করি। অনেকে আশকারাই দেন যেন!
টিভিতে কৌতুকের অনুষ্ঠান দেখে এ ব্যাপারে গভীরতা আরও বেড়েছে। গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ অন্যতম প্রিয় অনুষ্ঠান ছিল। ২০১৪ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষ। আর তার দিন কয়েক বাদে মীরাক্কেল-এ সুযোগ। তবে যাওয়া আর হয়নি। কারণ ততদিনে বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিলে কলকাতায় এসে থাকতে হত। লেখাপড়ার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।