'Youtuber Shadab Jakati র কাছে যেচে গিয়েছি, টাকাও পাই,' পাল্টা জবাব মহিলার

১০ টাকার বিস্কুটের দাম জিজ্ঞেস করে ভাইরাল হয়েছিলেন শাদাব জকাতি। এবার ফের বিতর্কে ইউটিউবার শাদাব। তবে এ বার কোনও ভিডিও কনটেন্ট নয়। তাঁর সঙ্গে কাজ করা এক মহিলা এবং তাঁর স্বামীর পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করেই উত্তাল পরিস্থিতি।

Advertisement
'Youtuber Shadab Jakati র কাছে যেচে গিয়েছি, টাকাও পাই,' পাল্টা জবাব মহিলারখুরশিদের অভিযোগ, স্ত্রী কিছু না জানিয়েই বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
হাইলাইটস
  • ১০ টাকার বিস্কুটের দাম জিজ্ঞেস করে ভাইরাল হয়েছিলেন শাদাব জকাতি।
  • এবার ফের বিতর্কে ইউটিউবার শাদাব।
  • অভিযোগ, স্বামীর প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রে যুক্ত সেই মহিলা।

১০ টাকার বিস্কুটের দাম জিজ্ঞেস করে ভাইরাল হয়েছিলেন শাদাব জকাতি। এবার ফের বিতর্কে ইউটিউবার শাদাব। তবে এ বার কোনও ভিডিও কনটেন্ট নয়। তাঁর সঙ্গে কাজ করা এক মহিলা এবং তাঁর স্বামীর পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করেই উত্তাল পরিস্থিতি। অভিযোগ, স্বামীর প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রে যুক্ত সেই মহিলা। সেই অভিযোগ জানাতে গিয়ে থানায় পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই ব্যক্তি।

ইঞ্চৌলি থানায় হাজির হন খুরশিদ ওরফে সোনু। তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। থানার ভিতর এবং বাইরে উপস্থিত সকলের সামনে বারবার বলতে শোনা যায়, তাঁর স্ত্রী তাঁকে খুন করাতে চাইছেন। নিজের এবং সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। খুরশিদের অভিযোগ, স্ত্রী কিছু না জানিয়েই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। ইউটিউবার শাদাব জকাতির সঙ্গে ভিডিও বানানোর অজুহাতে একটানা কয়েক দিন বাড়ির বাইরে থাকেন। তাঁর দাবি, শাদাবের প্ররোচনায় স্ত্রী তাঁকে হুমকি দেন, গালিগালাজ করেন। এমনকি বারবার ডিভোর্স ও থানায় যাওয়ার ভয় দেখান।

খুরশিদের আরও দাবি, তিনি হৃদরোগী। প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। তা সত্ত্বেও স্ত্রী তাঁকে মানসিক নির্যাতন করতেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে খুরশিদকে বলতে শোনা যায়, তাঁর স্ত্রী তাঁর কোনও খেয়াল রাখেন না। বিয়ের পরেও স্ত্রীর একাধিক জনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। সব কিছু উপেক্ষা করেছেন তিনি। এখন স্ত্রী শাদাব জকাতির সঙ্গেই যুক্ত। অভিযোগ, শাদাব তিন-চার দিনের জন্য স্ত্রীকে বাইরে নিয়ে যান। বাধা দিলে স্ত্রী নাকি বলেন, ‘তুই মরে যা, আমার কিছু যায় আসে না।’ খুরশিদের দাবি, কিছু দিন আগে স্ত্রী দেহরাদূন যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি আপত্তি করতেই স্ত্রী বলেন, তিনি থানায় বসে আছেন। পরে তাঁর সন্দেহ হয়, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র চলছে। খুরশিদের আশঙ্কা, তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা হয়েছে। তাতে একাধিক মানুষ জড়িত।

Advertisement

স্বামীর অভিযোগের পাল্টা দিতে সামনে আসেন স্ত্রী ইরম। তিনিও একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। ইরমের বক্তব্য, তিনি শাদাব জকাতির সঙ্গে শুধুই কাজ করেন। তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক পান। তাঁর দাবি, স্বামী খুরশিদ তাঁকে নিয়মিত মারধর করতেন। টাকার দাবিও করতেন। চার সন্তানের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। সংসার চালাতেই তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে। ইরম বলেন, তিনি শাদাবের সঙ্গে ভিডিও বানান। তার টাকা পান। এতে কোনও অন্যায় নেই। স্বামী সেটাই মেনে নিতে পারছেন না। মারধর, গালিগালাজ চলত নিয়মিত। সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতেই কাজ করছেন তিনি।

ইরম স্পষ্ট করে জানান, শাদাব জকাতি তাঁকে জোর করে কোথাও নিয়ে যান না। ভিডিও বানানোর জন্য কোনও চাপও দেন না। নিজের ইচ্ছেতেই যান। নিজের ইচ্ছেতেই কাজ করেন। ইচ্ছেমতো বাড়ি ফেরেন। তিনি জানান, স্বামী আগেই তাঁকে তালাক দিয়েছেন। এখন তিনি চূড়ান্ত তালাক চান। স্বামীর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক আর নেই। আলাদা থাকতেই চান। তাঁর অভিযোগ, স্বামী তাঁকে মারধর করেছেন বহুবার। এই ঘটনার সঙ্গে শাদাবের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্কও নেই। সম্পূর্ণ পেশাগত সম্পর্ক।

এই বিতর্কে বারবার উঠে আসছে শাদাব জকাতির নাম। তবে ইরম তাঁকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় শাদাবকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা। ইরমের দাবি, তিনি নিজের বাড়িতেই থাকেন। তাঁকে কোথাও বন্দি করে রাখা হয়নি। যে সব অভিযোগ উঠছে, সবই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

পুরো ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় হাজির। ইঞ্চৌলি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, মহিলা থানায় এসে নিজের বক্তব্য রেকর্ড করিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাইরাল ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা আলোচনা; সবই তদন্তের আওতায়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না বলেই জানিয়েছে পুলিশ।

POST A COMMENT
Advertisement