scorecardresearch
 

দীর্ঘ ২৫ বছর পর অশোক সাম্রাজ্যের পতন শিলিগুড়িতে, মুছে গেল লাল রংও

দীর্ঘ ২৫ বছর পর অশোক সাম্রাজ্যের পতন শিলিগুড়িতে, মুছে গেল লাল রংও। বামেদের হারে কার্যত রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়লো শিলিগুড়ি মডেল।

Advertisement
অশোক ভট্টাচার্য অশোক ভট্টাচার্য
হাইলাইটস
  • হারলেন অশোক ভট্টাচার্য

গড়ে ফাটল আগেই ধরেছিল। অবশেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল শিলিগুড়ির বাম দুর্গ। গত বিধানসভা নির্বাচনে অশনিসংকেত দেখতে পেয়েছিল বাম জোট। তবে তা যে নকশাল আন্দোলনের মতো বামপন্থী আন্দোলনের পীঠস্থান শিলিগুড়িতে এভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে তা বোধহয় অতি বড় বাম সমর্থকও ভাবতে পারেননি।

গতবার যে ওয়ার্ড থেকে জিতেছিলেন। সেই ওয়ার্ডে এবার পাঁচশোর বেশি ভোটে হারলেন একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ রাজ্যের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী তথা বিদায়ী মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। শিলিগুড়ি মডেলের প্রতিষ্ঠাতা অশোকবাবুকে সামনে রেখেই ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছিল গোটা রাজ্যের বাম সমর্থকরা। শেষমেষ সেই আশাতেও জল ঢেলে শিলিগুড়িতে পতন হলো একদা গঠিত সাম্রাজ্যের।

শিলিগুড়িতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হওয়ার কথা থেকেও শেষমেশ আসন বন্টন নিয়ে গোলমালের কারণে জোট হয়নি। পরে আশা ছিল মোটামুটি খান বিশেক আসন পেলে বাকিটা কংগ্রেসকে নিয়ে বোর্ড গড়ে দেওয়া যাবে। যেভাবে গতবার তারা বোর্ড চালিয়েছিলেন।

কিন্তু গত পাঁচ বছরে অশোকবাবুদের একের পর এক চিঠি-চাপাটি আর না পাওয়ার হা-হুতাশ বোধ হয় ভাল লাগেনি শিলিগুড়িবাসীর। তাই গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে প্রবল সবুজ ঝড়েও যেখানে ১ ইঞ্চি মাস্তুলো টাল ধরাতে পারেনি, সেখানে অবশেষে পতন হলো লাল দুর্গের। যেন কফিনে শেষ পেরেকটিও ঢুকে গেল।

শুধু অশোকবাবু হেরেছেন তাতো নয়। একের পর এক চেনা মুখ, দীর্ঘদিনের কাউন্সিলররা হেরে গিয়েছেন। কিছু কিছু বাম কাউন্সিলর ভোটের আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়ে নিজেদের ঘর বাঁচিয়েছেন অশনিসংকেত আগে থেকেই বুঝতে পেরে। যারা পুরনো দল ছেড়ে যেতে পারেননি, তাঁরা একে একে গণনা কেন্দ্র থেকে নতমস্তকে বেরিয়ে গিয়েছেন। বেলা যত বেড়েছে গণনাকেন্দ্রের লাল রং ফিকে হয়েছে।

হারের পর অশোকবাবুর দাবি, জনগণের রায় মাথা পেতে নিয়েছেন। কিছুদিন আগেই স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে তাঁর। অশোকবাবু হয়তো মনে মনে ভাবছেন। তাঁর পরাজয় স্ত্রীকে দেখতে হলো না। বাম কাণ্ডারির স্বস্তি শুধু এটুকুই।

Advertisement

Advertisement