scorecardresearch
 
 

ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জণ্ডিসের আতঙ্কে কাঁপছে মালদাবাসী, সৌজন্যে বিহারে গঙ্গায় লাশ!

বিহারে গঙ্গায় লাশ ভাসছে গঙ্গায়। সেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে লাগোয়া এ বাংলার মালদাতেও। আতঙ্কের গরু এমনভাবে গাছে উঠেছে, এমনকী যেখানে গঙ্গা নেই, সে সব নদীর মাছও ভয়ে খেতে চাইছে না মানুষ। এবার আরও একটু আতঙ্ক বাড়িয়ে গঙ্গার জলই পান করা ছেড়ে দিল মালদার মানুষ। বদলে আর্সেনিকযুক্ত দূষিত জল। ফলে জলবাহিত রোগে ভোগার আশঙ্কায় আতঙ্কে কাঁপছে গোটা জেলা।

মালদা মেডিক্য়াল কলেজ- ফাইল ছবি। তৈরি স্বাস্থ্য দফতর। মালদা মেডিক্য়াল কলেজ- ফাইল ছবি। তৈরি স্বাস্থ্য দফতর।
হাইলাইটস
  • লাশের আতঙ্কে গঙ্গার জলে গোঁসা এলাকাবাসীর
  • আর্সেনিকযুক্ত দূষিত জলই এখন পছন্দের
  • গুজবেই সমস্যা তীব্র হয়েছে মালদায়

ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের আতঙ্কে কাঁপছে মালদা। সৌজন্যে সেই বিহারের গঙ্গায় করোনা রোগীর লাশ।

ব্যাপার কী! খোলসা করা যাক

বিহারে গঙ্গায় লাশ ভাসছে গঙ্গায়। সেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে লাগোয়া এ বাংলার মালদাতেও। আতঙ্কের গরু এমনভাবে গাছে উঠেছে, এমনকী যেখানে গঙ্গা নেই, সে সব নদীর মাছও ভয়ে খেতে চাইছে না মানুষ। এবার আরও একটু আতঙ্ক বাড়িয়ে গঙ্গার জলই পান করা ছেড়ে দিল মালদার মানুষ। মালদা জেলার গঙ্গা লাগোয়া একাধিক গ্রামের মানুষ এখন পানীয় জল ছেড়ে দূষিত ও অপরিশোধিত জলই খাচ্ছেন।

ব্যাপক জলবাহিত রোগের আশঙ্কা

যাতে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ডাইরিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো জলবাহিত রোগের। তার উপর করোনাও হতে পারে বলে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আতঙ্ক বড় বালাই। একবার মনের মধ্যে ঢুকে গেলে তা বের করে কার সাধ্যি! তাই রোগ হয় হোক, লাশ ছুঁয়ে এসেছে যে জল, তা পান করা যাবে না। নৈব নৈব চ।

গঙ্গার জলই পরিশোধিত করে পান করে মালদহবাসী

পাইপলাইনের মাধ্যমেই মালদাবাসীর বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছয়। আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল রিজার্ভারে তোলা হয়। কিন্তু এই জল গঙ্গা থেকে তুলেই পরিশোধন করা হয়। সে জন্যই ওই এলাকার বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, ওই পাইপলাইনের জল খেলে তাঁরাও কোভিডে আক্রান্ত হতে পারেন। সে জন্যই পরিশোধিত জল খাওয়া বন্ধ করে আর্সেনিকযুক্ত জলই খাচ্ছেন। তা বলে আর্সেনিকযুক্ত জল খাবেন! করোনা যুক্ত লাশ মিশ্রিত জল! খাওয়া চলবে না।

আর্সেনিকের বিষ পান করছেন মালদাবাসী

এলাকায় জলে আর্সেনিকের সমস্যা অনেক পুরনো। এ জন্য সরকারের উদ্যোগে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন গ্রামে। এতদিন তাঁরা সেই জলই খাচ্ছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা আর্সেনিকই বেছে নিয়েছেন। 

কোন কোন এলাকায় সমস্যা তীব্র

মালদা জেলার কালিয়াচক, মানিকচক, রতুয়ার বেশ কিছু গ্রামে একই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সমস্ত এলাকায় অন্তত এক লক্ষের বেশি মানুষ বাস করেন।
 

ফলে কোনও সমস্যা হলে তা যাতে মহামারির আকার ধারণ না করে তার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি খবর পেয়ে সতর্কতা মূলক প্রচার শুরু করেছে প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, এলাকার মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। গঙ্গার জল খেলে কোনও বিপদ নেই, তা বোঝানো হচ্ছে। চক্রান্ত করেই এই গুজব ছড়ানো হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

আদতে প্রশাসনিক তৎপরতাতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে

গঙ্গায় বিহারে লাশ ভাসার খবর মিলতেই প্রশাসনের তরফে তড়িঘড়ি নৌকা নামিয়ে গঙ্গা দিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়েছিল। এমনকী গঙ্গার পারে কিছু জায়গায় মাটি খুঁড়ে আগাম কবর তৈরি করে রাখা হয়েছিল। যদি দেহ মেলে তাহলে যাতে কবর দেওয়া যায়। এ সমস্ত দেখে শুনে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

গোদের উপর বিষফোঁড়া

এর মধ্যে আবার প্রশাসনিক তৎপরতা দেখে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আগ বাড়িয়ে সোস্যাল সাইটে, এমনকী মাইকিং করে গঙ্গার জল পান করতে বারণ করে। তাতেই আতঙ্ক ছড়ায় মালদায়। মাছের বাজারে আগেই আতঙ্কে ভাঁটা পড়েছিল, তার উপর জল পানেও সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে।