scorecardresearch
 

৭১ এর বন্যাত্রাণে অর্থ তুলতে মালদায় পথে পথে ঘোরেন সেদিনকার সুভাষ ভৌমিক

মালদায় ছোটবেলার একটা বড় সময় কাটিয়েছেন বিখ্যাত ফুটবলার সুভাষ ভৌমিক। তাঁর মৃত্যুতে সহপাঠী থেকে সেই সময় যাঁরা সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, তাঁরা স্মৃতিমেদুর। সম্মান জানাতে চায় মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থাও।

সুভাষের স্কুল সুভাষের স্কুল
হাইলাইটস
  • ঘরের ছেলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মালদা
  • সুভাষের স্মৃতি আঁকড়ে রাখতে চায় মালদা
  • মালদা সুভাষের স্মৃতিতে কিছু করতে চায়

বিখ্যাত খেলোয়ার সুভাষ ভৌমিক ছিলেন মালদার ছেলে। মালদা জেলা স্কুলে পড়াশোনা। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে ফুটবল খেলার সূত্রে কলকাতায় গিয়েছিলেন। তারপর ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন মালদার জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠেও তার খেলা দেখেতে মানুষ ভিড় করতো। 

সুভাষের স্মৃতি হাতড়াচ্ছে মালদা

ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তাঁর সময়ে ফুটবল ময়দানে একের পর এক ফুল ফুটিয়ে গিয়েছিলেন। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দাপিয়ে খেলেছেন। ভারতের হয়ে জিতেছেন এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক।

সুভাষ ভৌমিকের সাফল্য

খেলোয়াড় হিসেবে সুভাষ ভোমিকের অধ্যায়টা যতটা রঙিন ক্যানভাসে বাধানো ছিল. তার চেয়ে বেশি সাফল্য তিনি পেয়েছেন কোচ হিসেবে। প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুরু মেনে কোচ হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিলেন। তার পর তো সবটাই ইতিহাস। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন ক্লাবে সাফল্যের সাথে কোচিং করিয়েছেন। তবে কোচ হিসেবে সুভাষের সেরা সাফল্য ২০০৩ সালে আশিয়ান ট্রফি। সুভাষ ভৌমিকের এই আকম্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারতীয় ফুটবল মহল।

শোকাহত ছোটবেলার এলাকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তিনি জানান তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত একটা সময় খেলা দেখার জন্য আমরা ডিএসএ মাঠে ভিড় করতাম মালদা জেলার ছেলে হয়েও ফুটবল খেলার যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছে কলকাতায়। তার মৃত্যুতে ফুটবল জগতের অপূরণীয় ক্ষতি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

দশম শ্রেণি পাশ করে সুভাষ কলকতায় চলে গেল

সুভাষবাবুর এক সহপাঠী শ্রী কল্যাণ সেন জানান,১৯৬৮ সালে সুভাষ আমাদের সাথে জেলা স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়তে আসেন। অশ্বিনীবাবুর তত্ত্বাবধানে। অসম্ভব চৌকস ও মজার ছেলে ছিল। অসম্ভব গল্প করতে ভালোবাসতো। আমাদের সাথে বন্ধুত্বও হয়ে গিয়েছিল সহজেই। তখন আমাদের একটা গ্রুপ ছিল। যেখানে তরুণ ঘোষাল, হেম, দেবী, সুকৃত, অংশুতোষ, কমল এরা সবাই বন্ধু ছিলাম। পরে সমর এল ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি হলো। তারপর দশম শ্রেণি পাশ করে সুভাষ কলকতায় চলে গেল। আমরা ১৯৬৮তে উচ্চ মাধ্যমিক দিলাম।

স্কুল

মালদা জেলা স্কুলের হিন্দু হোস্টেলে থাকতেন

আর এক প্রাক্তনী দেবরঞ্জন দে জানান, ভারতীয় জাতীয় দলে এশিয়ান গেমস এ ব্রোঞ্জ পদক প্রাপ্ত দলের অন্যতম সদস্য সুভাষ ভৌমিক কাটিহারের ছেলে বলে জানতাম। যদিও পারিবারিক কারণে মালদায় কাটিয়ে কলকাতায় পাকাপাকি ভাবে চলে আসেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ফুটবল খেলার পারদর্শিতা দেখাতে শুরু করেন উনি জেলা দলের সদস্য হিসেবে। মালদা জেলা স্কুলের হিন্দু হোস্টেলে থাকতেন।

বন্য়াত্রাণে অর্থ সংগ্রহে মালদা ঘুরেছিলেন সুভাষ

১৯৭১ সালে বিধ্বংসী বন্যা কবলিত মালদার ত্রাণ ও পুনর্বাসন তহবিল সংগ্রহ করতে স্টেটব্যাঙ্ক মালদা শাখার উদ্যোগে ও মালদা ডি এস এ র পরিচালনায় মালদা জেলা একাদশ বনাম ভারতীয় স্টেটব্যাঙ্কের যে প্রদর্শনী ফুটবল খেলা ডি এস এ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাতে উনি স্টেট ব্যাঙ্কের পক্ষে খেলেছিলেন ১৯৭২ সালে। খেলার আগে বহিরাগত সকল স্টেটব্যাঙ্কের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সুভাষ ভৌমিক ও শহর পরিক্রমায় বেড়িয়েছিলেন অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।

শ্রদ্ধা জানাবে ক্রীড়া সংস্থা

কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী আরও জানান,ছোট বেলায় তার খেলা দেখার জন্য আমরা মাঠে যেতাম। তবে জেলা ক্রিয়া সংস্থার পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অনুষ্ঠান করা হবে মাঠে। সেখানে তার স্মৃতিচারণ করা হবে। যখন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মাঠে খেলতেন তার খেলা খুব ভালো লাগতো। তবে তার সঙ্গে মালদায় দেখা না হলেও তার খেলা দেখতে সুদুর মালদা থেকে কলকাতায় গিয়েছিলাম।

বৃন্দাবনি মাঠে দীর্ঘদিন খেলেছিলেন

ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সম্পাদক সুভাশিস সরকার জানান,তিনি মালদা জেলা স্কুলে পড়াশোনার সময় স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষকের মাধ্যমে ফুটবলে হাতেখড়ি। এরপর সে জেলা স্কুলের হয়ে টুর্নামেন্ট খেলেন। এরপর মালদার বৃন্দাবনি মাঠে দীর্ঘদিন খেলেছিলেন। এরপর জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে বহু খেলায় অংশ নেন। এরপর কলকাতায় যান। তার মৃত্যুতে আমরা শোকহত।