scorecardresearch
 

ফের বামেরা নাকি এবার বদল, শিলিগুড়ির হাওয়া কোন দিকে?

পুরভোট: তৃণমূল না বিজেপি? নাকি ফের বামেরা? দাঁত ফোটাতে পারে কংগ্রেসও। শিলিগুড়িতে হাওয়া কোনদিকে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন প্রতিশ্রুতি, প্রচার যাই থাকুক না কেন, এবার এককভাবে বোর্ড দখল করতে নাও পারে কোনও দল।

লড়াইয়ে শামিল লড়াইয়ে শামিল
হাইলাইটস
  • বিজেপি-তৃণমূলের প্রচারে টেক্কা অন্যদের
  • ভোটে লড়াই মূলত তৃণমূল-বামফ্রন্ট
  • একক বোর্ড না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

তৃণমূলের ডবল ইঞ্জিনের পাল্টা দিতে শিলিগুড়িতে হাজির বিজেপির ট্রিপল ইঞ্জিনের প্রতিশ্রুতি। শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে বিজেপি-তৃণমূলের তারকা প্রচারকদের ছড়াছড়ি। শিলিগুড়ি পুরভোটে তৃণমূল যেখানে এনে ফেলেছে রাজ চক্রবর্তী, অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিমদের, তেমনই বিজেপির তরফ থেকে শিলিগুড়িতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছেছেন প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা। মিছিলে হাজির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে রাজু বিস্তা, দিলীপ ঘোষ অনেকেই। 

তৃণমূলের তরফে বারবারই বলা হয়েছে রাজ্যে তৃণমূল এবং বিভিন্ন পুরসভা পঞ্চায়েতে অন্য দল থাকলে কাজে অসুবিধা হয়। কমিউনিকেশনের অভাব ঘটে। তা অবশ্য ভুক্তভোগী শিলিগুড়ি। গত পুরবোর্ডে থাকা বামেরা অভিযোগ করেছে যে রাজ্যের তরফে তাদের টাকা আটকে রাখা হচ্ছে। প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রীর কাছে করা দরবারের খতিয়ান পেশ করেছেন সংবাদমাধ্যমে কাছেও। অর্থাৎ তাদের দাবি যেহেতু বাম পরিচালিত পুরসভা, তৃণমূলের তরফে কোনও রকম সাহায্য করা হচ্ছে না। এর আগে অবশ্য তৃণমূল সেই দাবির স্বপক্ষে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক পদে বিদায়ী পুরবোর্ডকে তৃণমূল নেতৃত্বকে রেখে দিলেও যেখানে যেখানে তৃণমূলের পুর কিংবা পঞ্চায়েত বোর্ড নেই, সেখানে আইএএস অফিসার দিয়ে বোর্ড চালানো হয়েছে। শিলিগুড়িতে অবশ্য শেষ দিকে তৃণমূল নেতাদের বোর্ডে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল অর্থাৎ পরিষ্কার ডাবল ইঞ্জিন থাকলে তবেই হবে উন্নয়ন।

অন্যদিকে বিজেপি তরফে শিলিগুড়িতে হাজির হয়ে অর্জুন সিং, শুভেন্দু অধিকারী, রাজু বিস্তারা রাজ্যের হিংসা, সন্ত্রাস এসব নিয়ে তৃণমূলকেই বিঁধেছেন। পাশাপাশি বামেদের বিরুদ্ধে তেমন ভাবে সম্ভব না হলেও শিলিগুড়িতে বিজেপি যদি আসে, তাহলে বকলমে কেন্দ্র থেকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। শিলিগুড়ির চেহারা বদলে যাবে বলে দাবি করেছেন তিনি। শুভেন্দু, কেন্দ্রে বিজেপি রয়েছে, শিলিগুড়ির বিধায়কও বিজেপির। এখন পুরসভাও যদি বিজেপির দখলে আসে, তাহলে ট্রিপল ইঞ্জিন শিলিগুড়ি কে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

যদিও প্রচারের ঘনঘটায় বোঝা না গেলেও লড়াইয়ে প্রবলভাবেই রয়েছে তৃতীয় শক্তি বামফ্রন্ট। বামফ্রন্ট ও তাদের পরিচিত লোকেদের এনে নিজস্ব স্টাইলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। শতরূপ ঘোষ এর মত ইয়ং জেনারেশনকে ময়দানে নামানো হয়েছে প্রচারে। তবে সম্যক প্রচারে আর বাগাড়ম্বরে বোঝা না গেলেও মূলত লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের বলেই মনে করা হচ্ছে। বামেরা বিদায়ী শক্তি হিসেবে প্রবলভাবে ফিরে আসার দাবিদার। সেই সঙ্গে তাদের আরও একটা সুবিধে হল প্রয়োজনে কংগ্রেসের যে কটি আসন থাকবে সেটি তাদের পক্ষেই যাবে বলে তারা প্রায় সুনিশ্চিত। গতবারের মতো এবারও কংগ্রেস অন্তত চার থেকে পাঁচটি ওয়ার্ডে জয়ী হতে পারে বলে মনে করছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষে এ বছর পৌরসভা দখল করার সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগ। বিরোধীরা কোণঠাসা হতে হতে প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে। বিধানসভায় প্রবলভাবে ঝান্ডা ওড়ানো বিজেপি ও সংগঠনের বিভিন্ন জায়গায় খাপছাড়া দেখাচ্ছে। ফলে এবার যদি তৃণমূল শিলিগুড়ি পৌরসভা দখল করতে না পারে, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে তাঁদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তবে তৃণমূলের পক্ষে সবচেয়ে বড় সমস্যা একাধিক দলীয় কোন্দল। যা তাদের চিন্তায় রেখেছে।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার শেষ ভোট প্রচার মিটিং মিছিলে নিজেদের বার্তা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ হলে কার্পণ্য করছে না কোনও দলই। ৪৮ ঘন্টা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যাবে হাওয়া কোন দিকে।

 

 
; ; ;