scorecardresearch
 

চাপে পড়েই নতুন দল অনিতের, নইলে ভেঙে দিতে হতো তাঁদের মোর্চা

পুরনো পতাকাকে ইম্প্রোভাইজ করে নতুন দল গঠন করল অনিত থাপা। নাম আগেই ঘোষণা হয়েছিল, এবার পথচলা শুরু। কিন্তু সামনে কঠিনল লড়াই। কোন পরিস্থিতিতে নতুন দল আসুন জেনে নিই।

অনিত থাপা ও তার নতুন দল অনিত থাপা ও তার নতুন দল
হাইলাইটস
  • নতুন দল নিয়ে পথ চলা শুরু অনিতের
  • ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক পার্টি
  • কঠিন চ্যালেঞ্জ অনিতের সামনে

বৃহস্পতিবার বাধ্য হয়ে নতুন দল ঘোষণা করে দিয়েছেন অনিত থাপা। সঙ্গে ৬০ জনের কার্যনির্বাহী কমিটি। ফলে এটাও একটা বার্তা যে আমাদের সঙ্গে লোক রয়েছে। তবে সমর্থক কত রয়েছে তা অবশ্য প্রমাণিত নয়। বিনয়ের সঙ্গে কত গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে কত রয়েছে, তা আগামী নির্বাচনগুলিতে প্রমাণ হবে। তবে পাহাড়ের রাজনীতি যে বহুধাবিভক্ত হল তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই কারও।

বিমল, বিনয়ের শক্তিক্ষয়, শক্তি বেড়েছে অন্যদের

এক সময় সুভাষ ঘিসিংয়ের নেতৃত্বে জিএনএলএফ, তারপর বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার যে দাপট ছিল, সুপ্রিমোর ভয়ে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, তা ২০১৭ সালের আন্দোলনের সময় থেকেই দ্বিধাগ্রস্ত। বর্তমান রাজ্য সরকার পূর্বতন সরকারের মতো আন্দোলনে পিছু না হটে, সমঝোতার রাস্তায় না হেটে পালটা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে বিমলকে কার্যত নখদাঁতহীন করে দিয়েছেন। এমনকী সপরিবার ও সপার্ষদ পালিয়ে থাকতে হয়েছে তাঁকে। শেষমেষ রাজ্যের সঙ্গে সমঝোতা করে পাহাড়ে ফিরতে হয়েছে। তবে দাপট ফেরেনি। সেই সুযোগে জিএনএলএফ, অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ, বিজেপি, তৃণমূল নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে পাহাড়ে।

নতুন দল তৈরি না করলে দল ভেঙে দিতে হতো

এর মধ্যে বিমলকেই বহিষ্কৃত ঘোষণা করে নিজেরা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আসল ধারক ও বাহক বলে দাবি করা বিনয় তামাং মোর্চার সভাপতি বলে ঘোষণা করেন। এরপর বিমল ফিরলেও মোর্চা ১ এবং বিনয়রা মোর্চা ২ বলে পাহাড়ে রাজনীতি চালিয়ে যায়। আদালতে মামলা হলে নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁরা নির্দল প্রতীকে লড়তে বাধ্য হন। এরপর অবশ্য আদালতে তাদের মামলা দুর্বল হতে থাকে। নতুন দল তৈরি করা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

বিনয় দল ছাড়ায় নতুন দল ছিল সময়ের অপেক্ষা

তার মাঝেই অনিত থাপার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে দল ছাড়েন নতুন মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা বিনয় তামাং। যে বিনয় তামাং বিমল গুরুং, রোশন গিরিদের বহিষ্কৃত বলে ঘোষণা করেছিলেন, সেই বিনয়ই হঠাৎ কেঁদেকেটে বিমলকেই নেতা বলে ঘোষণা করে নিজের তৈরি দল ছাড়েন। ফলে আরও বিপাকে পড়েন অনিত। তাই তাঁর কাছে রাজ্যের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে চলা ছাড়া আপাতত কোনও রাস্তা ছিল না। তারই মাঝে নতুন দল গঠন অবশ্য়ম্ভাবী হয়ে ওঠে।

ডিকে প্রধানের হাত ধরে নতুন দলের সূচনা

সেইমতো আগেই ঘোষণা করেছিলেন। সেই মতো পথ চলা শুরু করল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক পার্টি (BGPM)। বৃহস্পতিবার জিমখানা(GYMKHANA) ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনিত থাপার নেতৃত্বে নতুন পার্টির ঘোষণা করেন দার্জিলিংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক ডিকে প্রধান। তিনিই এখন বিজিপিএমের অন্যতম মুখ।

পুরনো পতাকার সঙ্গে জুড়ল লালও

আর পূর্ব পরিকল্পনা মতোই দার্জিলিং এর হিলকার্ট রোডে, জিমখানা ক্লাবে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার অফিসে অনিত থাপার সামনে আনলেন নিজের রাজনৈতিক দল। প্রকাশ করলেন তিন রঙ-এর পতাকা। ব্যাখ্যা দিলেন তার। প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার পতাকার রং হলুদ, ধূসর, লালচে।

পতাকার রঙের ব্যাখ্যা

সমর্থকে ভরা অডিটোরিয়ামে বড় জায়ান্ট স্ক্রিনে বোঝানো হল তিন রঙ পতাকায় রাখার কারণ, গুরুত্ব। হলুদ রং পবিত্রতা, মানবতা, ধৈর্যের প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছে পতাকায়। ধূসর রঙ বোঝাবে নিরপেক্ষতাকে। আর  লালচে রং সাহস, ঔদার্য এবং সামাজিক বদলের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ফুটে থাকবে থাপার দলের পতাকায়।

প্রাক্তন বিধায়ক হরকাকে ডাকলেও এলেন না তিনি

কালিম্পঙের প্রাক্তন জিজেএম বিধায়ক তথা ‘জন আন্দোলন পার্টি’র প্রধান হরকা বাহাদুর ছেত্রীরও অনিতের দলে যোগ দিতে পারেন বলে একটি সূত্রের খবর মিলেছিল। হরকা বলেন অনিতদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। ওঁরা আমাকে নতুন দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমি নতুন দলে যোগ দেওয়ার কোনও কারণ দেখছি না। হরকার দাবি, রাজনৈতিক দলের নামের সঙ্গে ‘গোর্খা’ বা অন্য কোনও জাতি-নির্দেশক শব্দ যুক্ত করার ক্ষেত্রে মতাদর্শগত ভাবে তিনি সহমত নন। তাই আপাতত দূরত্ব বজায় রাখছেন।

গোটা পাহাড়কে পতাকায় ধরার চেষ্টা

পতাকার মাঝে আছে – হিমালয় পর্বত, তিস্তার নীল জল, চা পাতা আর পাহাড়ের অস্ত্র খুকরি। ওয়াকিবহাল মহল বলছে ভেবে চিনতে গোটা পাহাড়কে এক পতাকাতেই এঁকেছেন অনীত। সূত্রের খবর এই নতুন দলে ৬০ জনের কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। ফলে

নতুন দলকে স্বাগত বিজেপি বিধায়কের

কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ”অনীতের নতুন দলের জন্য তাকে শুভেচ্ছা। তবে একটাই কথা, পাহাড়ের গোর্খারা ১৯০৭ সাল থেকে যে স্বপ্ন দেখেছে নতুন দল সেই স্বপ্ন যাতে বোঝে এবং স্বপ্ন পূরণ করে। তবে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির উচিত এক হয়ে পাহাড়ের জন্য লড়াই করা।”

 

 
; ; ;