scorecardresearch
 
 

তৃণমূল নেতার শ্যালক 'ডন' খুনে অতি তৎপর পুলিশ, ২৪ ঘন্টায় ধৃত ২

তৃণমূল ব্লক সভাপতির শ্য়ালক 'ডন' বোকে ভাইকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযুক্তদের ধরতে অতি সক্রিয় পুলিশ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল তারা। পলাতক আরও তিন। তারা ভুটানের জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে অনুমান। তল্লাশিতে কোমর বাঁধছে পুলিশ। ঘটনায় আতঙ্কে কাঁপছে গোটা মাদারিহাট ও লাগোয়া এলাকা।

তৎপর বীরপাড়া থানা তৎপর বীরপাড়া থানা
হাইলাইটস
  • বোকে ভাই খুনে ধৃত দুই
  • তিন অভিযুক্ত ভুটানের জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়েছে
  • ভুটান সরকারের কাছে তল্লাশির অনুমতি নিচ্ছে পুলিশ

পুলিশ তৎপর, গ্রেফতার দুই

ডন বোকে ভাইকে নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। পলাতক আরো তিন। ধঋতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের তল্লাশি শুরু করবে পুলিশ।

বাকিরা ভুটানের জঙ্গলে, সন্দেহ পুলিশের

বোকে ভাইকে খুনের ঘটনায় পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে বাকি তিন অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি বন দফতরের অধীন দলগাঁও ও দলমোড়ের গভীর জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। অন্যদিকে পুলিশের অপর একটি সূত্রের মতে ডন বোকে ভাইকে খুনে অভিযুক্ত তিন জন দুষ্কৃতী অরক্ষিত ভুটান সীমান্ত পার হয়ে ভুটানে লুকিয়ে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ একদিকে যেমন জলপাইগুড়ি বন দপ্তরের সাহায্য চেয়েছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভুটান পুলিশ ও প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

থমথমে মাদারিহাট, ভয়ে কাঁপছে বাসিন্দারা

তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেনি। এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে তৃণমূলের মাদারিহাট ব্লক সভাপতির শ্যালক বোকে ভাইকে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনার পর থেকেই থমথমে গোটা মাদারিহাট ব্লক। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে বাড়ি থেকে পর্যন্ত বের হচ্ছেন না।

বালির খাদান আর ডলোমাইটেই বিপত্তি

দীর্ঘদিন ধরেই আলিপুরদুয়ার মাদারিহাট-বীড়পাড়া ব্লকের লঙ্কাপাড়া এলাকায় বালির খাদান এবং ভুটানের ডলোমাইট বোঝাই লরি থেকে তোলা আদায়কে কেন্দ্র করে শাসক দলের কিছু রাজনৈতিক নেতা বেশ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে।

ধৃতদের গাড়িতে তোলা হচ্ছে

শাসকদলের ছত্রছায়ায় বাড়ছে বোকেরা

ওই রাজনৈতিক নেতাদের মদতেই এলাকার দখল নিয়ে মাঝেমধ্যেই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গ্যাংওয়ার লেগেই রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ভুটান সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকার প্রায় সকলের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র (সামান) রয়েছে। এই সামান দিয়েই আকছার গুলির লড়াই চলে এই এলাকায়। এই এলাকার প্রত্যেকটি গ্যাংয়ের পিছনে শাসক দলের মাতব্বরদের হাত থাকায় পুলিশও কেশাগ্র স্পর্শ করতে ভয় পায় বোকে ভাইদের মতো ডনদের।

ঠিকাদাররা কাজ করতে ভয় পান

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে এই এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকারি কাজের বরাত প্রাপ্ত কোনও ঠিকাদার সংস্থাই এই অঞ্চলে কাজ করতে আসতে চায় না। আলিপুরদুয়ার জেলার ঠিকাদারদের অভিযোগ ওই এলাকায় কাজ করতে যাওয়া মানেই মৃত্যুকে ডেকে নিয়ে আসা। পুলিশের পরিসংখ্যান থেকেই পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত দুই বছরে এই এলাকায় ছয়টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুইটি খুনের ঘটনার সাথে সরাসরি নাম জড়িয়েছে মৃত ডন বোকে ভাইয়ের।

একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত ছিল বোকে ভাই

২০১৫ সালে রামঝোড়া বাজারে রূপেশ থাপা এবং ২০১৮ সালে নিরঞ্জন রাই, ও জেঠা ছেত্রী খুনে অভিযুক্ত ছিল ডন বোকে ভাই। এছাড়াও এই ডনের বিরুদ্ধে একাধিক অস্ত্র আইনের মামলা সহ তোলাবাজি মামলায় ক্রমশ ডনের অপরাধের ফাইল মোটা হচ্ছিল।

জামাইবাবুই বোকের আশ্রয় ছিল

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন ডন বোকে ভাই তার জামাইবাবুর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। শাসক দলের ব্লক সভাপতির শ্যালক হওয়ার সুবাদে পুলিশকে তার পকেটে বন্দি করে ফেলেছিল। সেই ক্ষমতার বলেই ডন বোকে ভাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের একএক করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছিল। আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ জানিয়েছে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।