scorecardresearch
 

দোমহনি রেল দুর্ঘটনার জেরে ভোলবদল, একাধিক ট্রেনে জুড়ছে অত্যাধুনিক কোচ

দোমহনিতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর সম্বিৎ ফিরল রেলের। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের একাধিক ট্রেনে বসানো হচ্ছে অত্য়াধুনিক এলএইচবি কোচ। অনেক বেশি নিরাপদ এবং কম ঝুঁকির এই বগিগুলি বসবে আপাতত চারটি ট্রেনে।

এই রেক চালু হলো মহানন্দা এক্সপ্রেসে এই রেক চালু হলো মহানন্দা এক্সপ্রেসে
হাইলাইটস
  • দোমহনিতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর সম্বিৎ ফিরল রেলের
  • মহানন্দা এক্সপ্রেস সহ চারটি ট্রেনে বসছে অত্যাধুনিক রেক
  • সহজে লাইন থেকে বের হবে না ট্রেন

রেলদপ্তরের চোখ খুলে দিল ময়নাগুড়ি রেল দুর্ঘটনা। যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবার মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনেও অত্যাধুনিক এলএইচবি কোচ জুড়তে চলেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেসের সবকটি রেক এবার এলএইচবি কোচে পরিবর্তন করা হচ্ছে। আগামী একমাসের মধ্যেই নতুন ৪ টি রেক সক্রিয় করা হবে এই ট্রেনে।

রেল সূত্রের খবর উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের হাতে এই মুহুর্তে ৩টি  এলএইচবি রেক তৈরি রয়েছে। ৪ নম্বর রেকের কিছু কাজ বাকি। দ্রুত ৪ নম্বর রেকটি তৈরি হলেই এলএইচবি রেকেই চলবে দিল্লিগামী ট্রেনটি। উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার থেকে সরাসরি প্রতিদিন দিল্লি গামী ট্রেন একটিই।সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেস (১৫৪৮৩ ডাউন/১৫৪৮৪আপ)।তবে ১৯৮৯ সাল থেকেই ট্রেনটি পুরনো আইসিএফ কোচেই চলছে। রেলের আলিপুরদুয়ার থেকে দিল্লি দৈনিক ট্রেনটিকে চালাতে মোট ৫ টি রেকের প্রয়োজন হয়। একটি রেক স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়।

জলপাইগুড়ির দোমোহনিতে দুর্ঘটনার পর থেকেই এলএইচবি রেকের দাবি তীব্র হয়েছে সবধরনের যাত্রীবাহি ট্রেনে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলে দিল্লিগামী ব্রক্ষ্মপুত্র মেল ট্রেনটিতে ২০১৯ সালে এলএইচবি রেকে পরিবর্তন করা হয়। তারপর আর দুএকটি ট্রেনে অত্যাধুনিক কোচ যুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনও অবধি সীমান্ত রেলের সিংহভাগ যাত্রীবাহী ট্রেন পুরনো আইসিএফ কোচ দিয়ে চলছে। রাজধানী এক্সপ্রেস সহ সরাইঘাট,কাঞ্চনজঙ্ঘা সহ মাত্র গুটিকয়েক দূরপাল্লার ট্রেনে রেক বদল হয়েছে।

ট্রেন

আলিপুরদুয়ার থেকে শুধুমাত্র কলকাতা গামী পদাতিক এক্সপ্রেসে এলএইচবি রেক রয়েছে।তিস্তাতোর্সা, কাঞ্চনকন্যা,উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের মত জনপ্রিয় দূরপাল্লার ট্রেনগুলিও পুরনো দিনের কোচ দিয়েই চলছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল বিশেষজ্ঞ  বলেন,মাসকয়েক আগেই অসমের গোয়ালপাড়াতে সরাইঘাট এক্সপ্রেসের বেশ কিছু বগি ইঞ্জিন সহ লাইনচ্যুত হয়েছিল। 

বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসে যদি আইসিএফের বদলে এলএইচবি রেক থাকতো,নিশ্চিত একজন মানুষেরও মৃত্যু হতো না। জানা গিয়েছে, এলএইচবি কোচে সম্পূর্ণভাবে সিবিসি অর্থাৎ সেন্টার বাফার কাপলিং এর মাধ্যমে কোচগুলি পরস্পর সংযুক্ত। যা কোনও কারণে ট্রেন লাইনচ্যুত হলেও বগি বা কোচকে পাল্টি খেতে দেয় না বা একটি বগির উপরে আরেকটি বগিকে চড়ে পড়তে দেয় না। যা দোমোহনির ঘটনায় দেখা গিয়েছে। পুরনো কোচের তুওনায় অনেক হাল্কা এলিএইচবি কোচ। ইঞ্জিনে যে ধরণের গলদই থাকুক না কেন, এলএইচবি রেক ১০০ কিমির বেশি গতিতে ট্রেন চললেও,দুর্ঘটনা হলেও খুব বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে না।

ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক ভাবে ১৮০ কিমি গতিতে সাবলিলভাবে ছুটেছে কোচগুলি। এই কোচ থাকলে ট্রেন যে গতিতেই লাইনচ্যুত হোক না কেন, কোচগুলি রেলট্র্যাক ঘষে ঘষে হয়তো কিছুটা যাবে। তবে সাবেকী আইসিএফ কোচের এমন সুবিধা নেই। এদিকে,দোমোহনির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আচমকাই ইঞ্জিন বিকল হয়। ড্রাইভার আপৎকালিন ব্রেক কষায় পিছনের ৬ টি বগি দুর্ঘটনায় পরে। কোচের মাথায় কোচ উঠে যায়। মোট ৩ টি কোচ ভয়ংকর ভাবে দুর্ঘটনার কবলে পরে। ৯ জনের মৃত্যু হয়। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার সঞ্জীব ঘোষ বলেন, খুব দ্রুত সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেসের রেক এলএইচবিতে পরিবর্তিত করা হবে।

রেল

কী এই এলএইচবি কোচের সুবিধা? 

১) আইসিএফ কোচের থেকে অত্যাধুনিক মানের।

২) ওজনে অনেক হাল্কা এবং মজমুত।

৩) জার্মান প্রযুক্তিতে নির্মিত। 

৪) মুহূর্তেই দ্রুত গতিতে ছুটতে সক্ষম।

৫) রেল লাইনের উপর অনেক কম প্রেসার পড়ে।

৬) যে কোনও গতিতেই চটজলদি দাঁড়িয়ে পড়তে সক্ষম।

৭) যদিও দুর্ঘটনা ঘটে তবে একটি কোচ অন্যটির মধ্যে ঢুকে পড়ে না বা উপরে উঠে পড়েনা।

৮) দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কম।

৯) দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও যাত্রীদের ক্ষতির পরিমান অনেক কম।

১০) দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও কোচ গুলো লাইন ছেড়ে বেড়িয়ে পড়ে না।