scorecardresearch
 

শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দখল নিতে মুখোমুখি দুই ভাই, জোড়াফুল বনাম পদ্ম

শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে দুই ভাইয়ের লড়াই। জমে উঠেছে। সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে কানহাইয়া পাঠক লড়াই করছেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি। তবে কাউন্সিলর যেই হোক একই পরিবারের প্রতিপত্তি থাকবে, এমনটাই আশা তাঁদের।

দুই ভাই, সঞ্জয় ও কানহাইয়া দুই ভাই, সঞ্জয় ও কানহাইয়া
হাইলাইটস
  • দুই ভাইয়ের লড়াই জমে উঠেছে
  • মুখোমুখি ঘরোয়া লড়াই
  • সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে কানহাইয়া

শিলিগুড়ি পুরভোটে এক নম্বর ওয়ার্ডে মুখোমুখি টক্করে দাদা-ভাইয়ের লড়াই। একদিকে তৃণমূল টিকিটে লড়ছে প্রার্থী সঞ্জয় পাঠক। অন্যদিকে বিজেপির টিকিটে লড়ছে তাঁর খুড়তুতো ভাই কানহাইয়া পাঠক। তবে প্রচারে একজন আরেকজনকে তুলোধোনা করতে না ছাড়লেও, রাতে প্রচার শেষে সৌজন্য বিনিময়ে কোনও খামতি থাকছে না। এলাকার বাসিন্দা বলুন কিংবা শহরবাসী বলছেন, জিতুকে যেই, কাউন্সিলর একই পরিবারে যাবে।

গত পুরভোটে এই ওয়ার্ডে অবশ্য বিজেপির প্রার্থী মালতী রায় ৬৫১ ভোটে জিতে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। তবে তার আগে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলেন সঞ্জয় পাঠক। তবে তখন তিনি কংগ্রেসের টিকিটে এই ওয়ার্ড থেকে জিতে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। তাই এবার নিজের হৃত আসন পুনরুদ্ধার করতে লড়ছেন সঞ্জয়বাবু। আর ভাই কানহাইয়া পাঠক নিজে প্রথমবার প্রার্থী হলেও ওয়ার্ডে দলের ঝাণ্ডা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।

পুরনিগমের নির্বাচন ঘোষণা হতেই সব ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার। প্রত্যেকেই ওয়ার্ড নিজের দখলে নিতে মরিয়া। তবে এবার পুরনিগম ১ নং ওয়ার্ডে দখল নিতে লড়ছে দুই ভাই। সেই ক্ষেত্রে ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রচার করছে ভাই। শিলিগুড়ি পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে মূলত রেল কলোনি অধ্যুষিত। এই ওয়ার্ডে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি রয়েছে। হরিজন বস্তিও রয়েছে এখানে। এই ওয়ার্ডের বহু জায়গা এখনও বৃষ্টিতে জলের তলায় চলে যায়। পানীয় জল রাস্তা নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। এই জায়গা থেকে সঞ্জয় পাঠক প্রচার করছেন, কংগ্রেস কাউন্সিলর হিসেবে তিনি এই ওয়ার্ডের জন্য কী কী কাজ করেছিলেন।

বিশেষকরে গরিব মানুষদের বিভিন্ন ভাতার যে সুযোগ তিনি করে দিয়েছিলেন সে কথা তিনি প্রচারে রাখছেন। শুধু তাই নয় এবার তার প্রচারের বড় হাতিয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গরীব মানুষের জন্য একের পর এক কল্যাণকর প্রকল্প। যার মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প । যা ওই ওয়ার্ডের মানুষের কাছে প্রচার করছেন সঞ্জয় পাঠক।

এদিন তৃণমূল প্রার্থী সঞ্জয় পাঠক বলেন, এই ওয়ার্ড বিজেপি কাউন্সিলর থাকায় এখানকার মানুষ রাজ্য সরকারের অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু দুয়ারের সরকার প্রকল্প চালু হওয়ার পর এখানকার মানুষ বুঝতে পেরেছে তৃণমূল সরকার গরিব মানুষের জন্য কত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে চলেছে। তৃণমূল সরকার গরিব মানুষের জন্য কাজের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়েই আমি মানুষের কাছে যাচ্ছি। তাতে মানুষের কাছ থেকে যেভাবে সাড়া পাচ্ছি সেটাই আমাকে জয়ের ব্যাপারে ভরসা যোগাচ্ছে।

অন্যদিকে সঞ্জয় পাঠকের ভাই কানহাইয়া পাঠক তাঁর দাদার দলের বিরুদ্ধে বিজেপির বুথ অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে সরব হয়েছেন। কানাইয়া পাঠক বলেন, এখানকার মানুষ বিজেপিকেই চান। কেন না গত পাঁচ বছরে আমাদের কাউন্সিলার ভালো কাজ করেছেন। সেটা বুঝতে পেরেই তৃণমূল আমাদের নির্বাচনী বুথ কার্যালয় ভাঙচুর করছে। আমরা তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, এবার ১ নং ওয়ার্ডে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূল, বিজেপি, আরসপি, কংগ্রেস প্রার্থী ছাড়াও চারজন নির্দল প্রার্থী রয়েছেন। নির্দল প্রার্থীর মধ্যে আলাদা করে আলোচনায় রয়েছেন বিজেন্দ্র কাপুর ওরফে মাসুম। তিনি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ হিসেবে পরিচিত। দল  টিকিট না দেওয়ায় তিনি নির্দল প্রার্থী হয়েছেন। তিনি নির্দল প্রার্থী হওয়ায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙ্গন ধরবে এই অঙ্কে জয়ের আশায় রয়েছে বিরোধীরা। তবে ভোটের ফলাফলে কোন ভাই শেষ হাসি হাসে তার দেখার বিষয়।