scorecardresearch
 
 

সিনেমার মতো, কলকাতার রাস্তায় তাড়া করে ভাইয়ের খুনিকে ধরে পুলিশে দিল দাদা

ঠিক যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। ফিল্মি হিরো-র ভাইয়ের খুনিকে ধরতে লম্বা দৌড় অনেক সিনেমায় দেখা গিয়েছে। ঠিক তেমনটা যে বাস্তবেও ঘটতে পারে তা এদিন দেখল কলকাতা। বিজেপি কর্মী ভাইকে পিটিয়ে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা। তাদের মধ্যে একজনকে আচমকা সামনে পেয়ে বাইকে করে ধাওয়া করে ধরে পুলিশের হাতে দিলেন দাদা।

লালবাজার পুলিশ দফতর লালবাজার পুলিশ দফতর
হাইলাইটস
  • কয়েক কিলোমিটার তাড়া করে আটক
  • সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে নিয়ে যায় অভিযুক্তকে
  • ভাইকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল

সিনেমার মতো

ঠিক যেন সিনেমা ,সাজানো চিত্রনাট্য। যেভাবে বদলা নিতে নায়ক ছুটে যান খলনায়ককে ধরতে। বাস্তবে সেই চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে এদিনের ঘটনা। একেবারে ফিল্মি কায়দায় ধাওয়া করে ভাইয়ের খুনিকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ।

পুলিশের খাতায় ওয়ান্টেড ছিলেন অভিযুক্ত

অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় দীর্ঘ দিন ধরেই পুলিশের খাতায় পলাতক ছিলেন এই অভিযুক্ত কাজল দাস। নারকেলডাঙ্গার সক্রিয় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের তদন্তে এর আগে সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। সেই হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত কাজল দাসের। তৃণমূল কর্মী কাজল দাস এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। 

আচমকাই মুখোমুখি খুনির

সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন নিহত বিজেপি কর্মী দাদা বিশ্বজিত। সেই সময় আচমকাই বিশ্বজিতের সামনে পড়ে যান তার ভাইয়ের খুনে অভিযুক্ত কাজল। কাজলকে দেখে চিনতে পারেন বিশ্বজিৎ। অন্যদিকে বিশ্বজিৎকে দেখেই দৌড়ে পালাতে থাকেন পলাতক অভিযুক্ত। সঙ্গে সঙ্গে কাজলের পিছনে ধাওয়া করেন বিশ্বজিৎ সরকার। সূত্রের খবর, গলি থেকে বেরিয়েই ২৩৭ নম্বর বাসে উঠে পড়েন কাজল। ছাড়বার পাত্র নন বিশ্বজিতও। দ্রুত নিজের বাইক নিয়ে বাসটির পেছনে ধাওয়া করেন নিহতের দাদা।

ফিল্মি কায়দায় বাইকে তাড়া বাসে

একেবারে ফিল্মি কায়দায় নারকেলডাঙ্গা থেকে বাসটির পিছু ধাওয়া করে উল্টোডাঙ্গা ফুট ব্রিজের কাছে পৌঁছলে, সেখানে সিগন্যাল লাল হয়ে যাওয়ায় দাঁড়িয়ে যেতে হয় বাসটিকে। সেই সময় বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। সূত্রের খবর, অভিযুক্তকে পালাতে দেখে উল্টোডাঙ্গা ফুট ব্রিজের কাছে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক কাছে গিয়ে বলেন, "ওই লোকটিকে এখনই ধরুণ, ও আমার ভাইয়ের খুনে অভিযুক্ত"। বিশ্বজিতের কথা শুনেই দ্রুত তৎপর হয়ে কাজল দাসকে পাকড়াও করেন কর্তব্যরত অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর।

লালবাজারে ফোন

এরপর লালবাজার পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ডিসি অফিস এবং স্থানীয় থানায় ফোন করে খবর দেন বিশ্বজিৎ সরকার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মানিকতলা এবং নারকেলডাঙ্গা থানার পুলিশ। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত কাজল দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে মানিকতলা থানার পুলিশ।

পিটিয়ে খুনের অভিযোগ বিজেপি কর্মীকে

প্রসঙ্গত, ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন নারকেলডাঙ্গা এলাকার সক্রিয় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধেও। ফলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবার।

এদিন নিয়ে খুনের ঘটনায় ৮ জন গ্রেফতার হল

এরপরেই টনক নড়ে পুলিশের। একে একে ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তবে পুলিশের খাতায় পলাতক ছিল এই অভিযুক্ত কাজল দাস। এই নিয়ে অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় এখনো পর্যন্ত মোট ৮ জন অভিযুক্ত ধরা পড়ল পুলিশের জালে।