scorecardresearch
 

Baruipur Muder Case: শ্রদ্ধা-আঁচ বারুইপুরে, ৩ হাজার টাকা না দেওয়ায় বাবার দেহ ৬ পিস করল ছেলে

গত ১৪ নভেম্বর বিকেলে নিখোঁজ হন উজ্জ্বল চক্রবর্তী। তার পরের দিন অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর বারুপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। ১৭ নভেম্বর বারুইপুর থেকে মল্লিকপুর যাওয়ার রাস্তার পাশে একটি পুকুর থেকে প্লাস্টিকে মোড়া অবস্থায় উদ্ধার হয় উজ্জ্বলবাবুর ঊর্ধাঙ্গ।

প্রাক্তন নৌ সেনা কর্মী খুনে ধৃত স্ত্রী ও ছেলে। প্রাক্তন নৌ সেনা কর্মী খুনে ধৃত স্ত্রী ও ছেলে।
হাইলাইটস
  • গত ১৪ নভেম্বর বিকেলে নিখোঁজ হন উজ্জ্বল চক্রবর্তী।
  • তার পরের দিন অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর বারুপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার।

শ্রদ্ধা ওয়াকার-কাণ্ডের আঁচ বারুইপুরে। এই ঘটনাতেও খুনি তাঁর পরিজনরাই। বারুইপুরে পুকুর প্রাক্তন সেনাকর্মী উজ্জ্বল চক্রবর্তীর খুনের পিছনে ছেলে ও স্ত্রী জড়িত থাকতে পারেন বলে অনুমান করেছিলেন তদন্তকারীরা। তদন্ত এগোতেই সত্যি হল সেটাই। পুলিশ সূত্রের খবর,ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে খুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার পর অস্ত্রোপচারের যন্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে দেহ। তদন্তে নেমে পুলিস উজ্জ্বলের বাড়ির সামনের পুকুর থেকে তাঁর দেহের একটি অংশ উদ্ধার করেছে। বাকি দেহাংশের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

গত ১৪ নভেম্বর বিকেলে নিখোঁজ হন উজ্জ্বল চক্রবর্তী। তার পরের দিন অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর বারুপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। ১৭ নভেম্বর বারুইপুর থেকে মল্লিকপুর যাওয়ার রাস্তার পাশে একটি পুকুর থেকে প্লাস্টিকে মোড়া অবস্থায় উদ্ধার হয় উজ্জ্বলবাবুর ঊর্ধাঙ্গ। কোমর থেকে ধড় ও মুন্ডুর খোঁজ মেলে। তবে হাত ২টি ছিল কাটা। ওই দেহাংশ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। শনিবার তার প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে উজ্জ্বলকে। চিকিৎসকরা অপারেশন থিয়েটারে রোগীর পচন ধরা দেহাংশ কাটার জন্য যে ধরণের ধারালো ছুরি ব্যবহার করেন তা দিয়ে কাটা হয়েছে দেহ।

জানা গিয়েছে, পরীক্ষার ফি দেওয়াকে কেন্দ্র করে গন্ডগোল বাধে বাবা ও ছেলের মধ্যে। বাবার কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা চায় ছেলে রাজু চক্রবর্তী। মদ্যপ অবস্থায় উজ্জ্বল ছেলেকে মারেন। পালটা বাবাকে ধাক্কা দেয় সে। উজ্জ্বল পড়ে গেলে তাঁর গলা টিপে ধরেন। শ্বাসরোধ করে বাবাকে খুন করে ছেলে। দেহ লোপাটের পরিকল্পনা করে মা-ছেলে। বাড়িতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহ ৬ টুকরো করা হয়। তারপর তা বস্তাবন্দি করে সাইকেলে চাপিয়ে দেহের বিভিন্ন অংশ নানা জায়গায় ফেলে আসে রাজু। ১৫ নভেম্বর ভোরবেলা মিসিং ডায়েরি করে মা-ছেলে। সকাল থেকে দুজনকে দফায় দফায় জেরা করে পুলিশ। তাতেই ভেঙে পড়েন তাঁরা। খুনের কথা স্বীকার করেন। দেহের বাকি অংশ পাওয়া গেলেও উজ্জ্বলের কোমর এবং পা এখনো পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে,প্রতিদিন সন্ধ্যায় নেশা করতেন উজ্জ্বল। রাতে ফিরতেন বাড়িতে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,১৭ নভেম্বর সকালে তাঁরা দেখতে পান পুকুরে প্লাস্টিকে মোড়া কিছু একটা গোসাপ খাচ্ছে। বিকেলে গোসাপের সংখ্যা আরও বাড়ে। এর পরই তাঁরা লাঠি দিয়ে প্লাস্টিক খুলে দেহাংশ দেখতে পান। খবর দেন পুলিশে। 

আরও পড়ুন- এবার আরও বেশি মহিলা পাবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, এই শর্তও তুলে দিল সরকার