ঝাড়গ্রাম (ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া)জঙ্গলমহলে ফিরতে চলেছে পর্যটন। যে জঙ্গলমহলের নাম শুনলে বছর কয়েক আগেও গা শিউরে উঠত। পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই অনুকূল হয়েছে। তাই এলাকার সৌন্দর্য তুলে ধরে পর্যটন ফেরাতে উদ্যোগী বন দফতর। জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রাম মানেই লাল মাটি, কাঁকড়াঝোড়, বেলপাহাড়ি, চিল্কিগড়, সুবর্ণরেখা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে এই জেলায়। শুধুমাত্র পর্যটনের পরিকাঠামোর অভাবে অবহেলায় পরে রয়েছে বছরের পর বছর। বন দফতরের উদ্যোগে ঝাড়গ্রামে সুবর্ণরেখা নদীর পারে তৈরি হচ্ছে দুর্গাহুড়ি ইকো পার্ক। আর মাস কয়েক পরই শেষ হয়ে যাবে পার্ক তৈরির কাজ। পুজোর আগেই হবে উদ্বোধন। তা যদি হয়, তবে পুজোর ছুটি কাটাতে নতুন গন্তব্য হয়ে দাঁড়াবে দুর্গাহুড়ি ইকো পার্ক।
ঝাড়গ্রাম থেকে কুলটিকরি ও কেশিয়াপাতা যাওয়ার রাস্তাতেই পড়বে দুর্গাহুড়ি ইকোপার্কটি। খড়্গপুর বনবিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের অধীনে এই ইকো পার্কটি সাজিয়ে তুলছে বন দফতর। পর্যটক আসলে পর্যটন শিল্পও গড়ে উঠবে। যার ফলে লাভবান হবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটন স্থল হিসেবে এই জায়গাটি উঠে এলে জঙ্গলমহলের ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের ব্যবসাতেও গতি ফিরবে। পাশাপাশি, গ্রামের সৌন্দর্যে ভ্রমণপিপাসুদেরও মুগ্ধ করবে।
দুর্গাহুড়ি ইকোপার্কটি ৪০ হেক্টর জায়গা জুড়ে জঙ্গল ঘেরা জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে। বছর দুয়েক ধরে চলছে ইকো পার্ক সাজিয়ে তোলার কাজ। বাটার ফ্লাই গার্ডেন, ভেষজ উদ্যান, ওয়াটার বডি, বোটিং করার ব্যবস্থা। জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছে সেজে উঠছে ইকো পার্ক। এছাড়াও থাকছে নক্ষত্র বন। সবুজে মুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে এই পার্কে। সাঁকরাইল ব্লকের মানগোবিন্দপুরে গ্রামীণ রিসর্ট তৈরি হয়েছে। ইকো পার্কের কারণে এই রিসর্টগুলিতেও ভিড় জমাবেন পর্যটকেরা।
কলকাতা থেকে প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জঙ্গলের রাণী ঝাড়গ্রাম। তপোবন, কনক দুর্গা, রামেশ্বর মন্দির, কাঁকড়াঝোড়ের বন। ঘাগড়া ঝর্ণা, রাজবাড়ি কী নেই! শুধু অভাব সঠিক পর্যটনের পরিকাঠামোয়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গত কয়েক বছরে ঢেলে সেজেছে জঙ্গলমহল। ইকো পার্কটি চালু হলে, পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী বন দফতর কর্তৃপক্ষরা।