
কথায় বলে, একটি ছবি কয়েক হাজার শব্দের সমান। BRICS সম্মেলনে তেমনই কয়েকটি ছবি বুঝিয়ে দিল, ভারতের দুনিয়াদারি। একই সঙ্গে আমেরিকার দাদাগিরি খতম করতে যে বিশ্বে নয়া শক্তি তৈরি হয়ে গিয়েছে, তারও ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে তেমনই কয়েকটি ছবি ভাইরাল। ছবিগুলি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলেও শেয়ার করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একসঙ্গে আড্ডা। তিন সুপার পাওয়ার।

পরের বার ব্রিকস সম্মেলন চিনে হবে। আজ অর্থাত্ শনিবার ঘোষণা করে দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বের ভূরাজনীতি যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে ভারত, চিন ও রাশিয়ার এই সখ্য বড় বার্তা দিচ্ছে।

একই সঙ্গে মোদী যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাত ধরে হাঁটেন, তখন বোঝাই যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকি ও ট্যারিফ চাপানোর যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে বিশ্বে আরও একটি শক্তি অচিরেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এই শক্তিরই বিশ্বে আধিপত্য হবে।

এদিন সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে মোদী বুঝিয়ে দিয়েছেন, গ্লোবাল সাউথ আর ব্যাক সিটে বসে থাকবে না। এ বার ফ্রন্ট রো বা সামনের সারিতে আসছে। নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়াতেও গ্লোবাল সাউথকে অংশ নিতে হবে। ভারত এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।

ব্রিকসসম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ক্ষমতায়ন ও বিশ্ব মঞ্চে বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন মোদী।

বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে আর শুধুমাত্র নিয়ম অনুসরণকারী হিসেবে থাকলে চলবে না। এবার তাদের নিয়ম নির্মাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিকসকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন মোদী। তাঁর কথায়, 'বর্তমানে বিশ্বের শাসনব্যবস্থা একটি পিরামিডের মতো। সেখানে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার মূলত শীর্ষে কেন্দ্রীভূত। নীচের সারিতে থাকা বহু দেশ সেই সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের যথেষ্ট ভূমিকা নেই।' এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘গ্লোবাল সাউথ’ কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল বা সংগঠনের নাম নয়। ঐতিহাসিক ভাবে পশ্চিমি উন্নত দেশগুলির তুলনায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কম প্রভাবশালী উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বোঝাতে এই ভাষা ব্যবহার করা হয়। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশ এতে অন্তর্ভুক্ত।

ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া-সহ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশকে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হয়। এই দেশগুলির অনেকগুলিই অতীতে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য, ঋণের বোঝা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের অভাবের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।