
আমেরিকার বড়সড় সামরিক অভিযানের পর কার্যত আতঙ্কের আবহ ভেনেজুয়েলাজুড়ে। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমাবর্ষণের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, দোকানপাটে উপচে পড়ছে ভিড়, সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে দেশ।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নার্কো টেররিজম’-এর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কয়েকশো যুদ্ধবিমান একযোগে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলা চালায় বলে দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।

হামলার পর রাজধানী কারাকাসে জনজীবন প্রায় স্তব্ধ। রাস্তায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা প্রায় নেই বললেই চলে। বহু মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় খাবার, জল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মজুত করতে সকাল থেকেই সুপারমার্কেট ও গ্রোসারি দোকানগুলিতে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ পরিষেবা ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কারাকাসের একাধিক এলাকায় মানুষ স্ট্রিট লাইটে এক্সটেনশন বোর্ড লাগিয়ে মোবাইল ফোন চার্জ করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ‘কোলেক্টিভোস’ নামে পরিচিত সরকারপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্যদের অস্ত্র হাতে রাস্তায় টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র উপস্থিতি আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।

হামলার জেরে রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলে একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বাড়িঘর। ধ্বংসস্তূপের ছবি সামনে আসতেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে।

কারাকাসের লা কার্লোটা এয়ারবেস এলাকায় পোড়া সামরিক যান ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। বিমানঘাঁটিতে বড়সড় সংঘর্ষের ইঙ্গিত মিলছে এই ছবিতে।

এদিকে, মাদুরোর গ্রেফতারের খবর ছড়াতেই তাঁর সমর্থকদের একাংশ রাস্তায় নেমে জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে বড় জমায়েত এড়াতে সতর্ক প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা আমেরিকা-ভেনেজুয়েলা টানাপোড়েন এই অভিযানের মধ্য দিয়ে এক নাটকীয় মোড় নিল। তবে মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।