scorecardresearch
 
 

গালওয়ানে সংঘর্ষে মারা গিয়েছিল তাদেরও সেনা, অবশেষে স্বীকার করল চিন!

প্রায় একবছর লাদাখ সীমান্তে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছিল দুই দেশের সেনা। তবে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। পূর্ব লাদাখে সেনা সরানো নিয়ে চিনের সঙ্গে চুক্তির কথা সংসদে বলেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই মত প্যাংগং সো থেকে সেনা সরাচ্ছে লালফৌজ। সেই ছবি ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে ভারতীয় সেনা। আর এর মাঝেই এবার স্বীকারোক্তি জিনপিং প্রশাসনের। গতবছর ১৫ জুন গালওয়ান সীমান্তে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের সেনাদেরও। সেই কথা মেনে নিল চিন সরকার।

গালওয়ান সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল বহু চিনা সেনার, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এমনটাই দাবি করে গালওয়ান সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল বহু চিনা সেনার, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এমনটাই দাবি করে
হাইলাইটস
  • গালওয়ান সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল বহু চিনা সেনার
  • আন্তর্জাতিক মিডিয়া এমনটাই দাবি করে
  • এবার তা নিয়ে তথ্য দিল জিনিপং প্রশাসন


প্রায় একবছর লাদাখ সীমান্তে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছিল দুই দেশের সেনা। তবে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। পূর্ব লাদাখে সেনা সরানো নিয়ে চিনের সঙ্গে চুক্তির কথা সংসদে বলেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই মত প্যাংগং সো থেকে সেনা সরাচ্ছে লালফৌজ। সেই ছবি ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে ভারতীয় সেনা। আর এর মাঝেই এবার স্বীকারোক্তি জিনপিং প্রশাসনের। গতবছর ১৫ জুন গালওয়ান সীমান্তে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের সেনাদেরও। সেই কথা মেনে নিল চিন সরকার। প্রকাশ করা হল নিহত ৪ সেনার তথ্যও।

Assam Election 2021: CAA-NRC থেকে চা! অসম নির্বাচনে যে ১০ ইস্যু থাকছে নজরে...

চিনের সরারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের খবর অনুযায়ী, দেশটির কেন্দ্রীয় সেনা আয়োগ কারাকোরাম পর্বতে অবস্থানরত ৫ সেনার বলিদানের কথা স্মরণ করেছে। এরা হলেন পিএলএ জিনজিয়াং মিলিটারি কমান্ডর কুই ফাবাও, চেন হংকুন, জিয়াংগাঙ, জিয়াও সিউয়ান এবং ওয়াং জুউরানের। গালভানের রক্তাক্ত সংঘর্ষে তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু, উদ্ধারকালে নদীতে পড়ে প্রাণ হারান আরও একজন।

সারা দুনিয়াকে এবার Corona Vaccine দেবে সিরাম, জরুরি অনুমোদন দিল WHO

গত ২৫ জুন গালওয়ান সীমান্তে মুখোমুখি সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। তখনি বলা হচ্ছিল, চিনের তরফেও প্রাণহাপন ঘটেছে। সেই সংখ্যাটা ৪০ কাছাকাছি। তবে জিনপিং সরকার এনিয়ে মুখ খোলেনি। এবার মাত্র ৪ সেনার মৃত্যুর খবর জানান চিনা সরকার। তবে গালওয়ান উপত্যকায় নিহত পিএলএর সেনা সংখ্যা আরও বেশি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি, ভারতের নর্দান কমান্ডের চিফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াই কে জোশী জানিয়েছিলেন যে গালওয়ান উপত্যকার সংঘাতের পরে ৫০ জন চিনা সেনাকে গাড়িতে করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গালওয়ানের ওই সংঘর্ষে, চিনা সেনাবাহিনীর বহু লোক নিহত হয়েছিল।

নর্দান কমান্ডের চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াই কে জোশির মতে, ৫০ বেশি চিনা সৈন্যকে গাড়িতে করে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে তারা আহত ছিলেন না মারা গিয়েছিলেন তা বলা মুশকিল। ওয়াই কে জোশি আরও বলেন, যে  রাশিয়ান সংস্থা টিএএসএস জানিয়েছে ওই সংঘর্ষে  ৪৫ জন চিনা সেনা নিহত হয়েছিল এবং আমাদের অনুমানও এর আশেপাশে রয়েছে।

গালওয়ান সংঘর্ষে শহিদ হন ২০ জন ভারতীয় সেনা
গতবছর মে মাস থেকেই লাদাখ সীমান্তে সেনা জড়ো করছিল লালফৌজ। পরিস্থিতি চরমে ওঠে জন মাসে। ৬ জুনের সামরিক স্তরের বৈঠকের পর চিন সেনার অধিগৃহীত জমি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কাজ খতিয়ে দেখতে শহিদ কর্নেল বিএল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে এলাকা পরিদর্শনে বেরোয় ভারতীয় বাহিনী। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় ১০০ জন জওয়ান। এর পরেই তাঁরা ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় গালোয়ান উপত্যকা এলাকা গিয়ে দেখে সেখানে দিব্যি তাঁবুতে ঘাঁটি গেড়ে বসে লালফৌজ। তাঁদের বের করে সেই তাঁবু ভাঙতে শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় কিছু তাঁবুতে। এতেই বিপদ বুঝে কাঠের তক্তা, লোহার রড, কাটা তার জড়ানো বাটাম-সহ আরও বাহিনী জড়ো হয় গালোয়ান এলাকায় । শুরু হয় দু'পক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ এবং তাতেই প্রাণ যায় ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের। যদিও ক্ষতি এড়াতে পারেনি চিনও। বিদেশি সাংবাদমাধ্যমের খবর  অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে লালফৌজের কমপক্ষে  ৪৫ জন জওয়ান হতাহত হন। যদিও চিনের সেনা সূত্র থেকে এব্যাপারে কোনও নিশ্চিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি এতদিন।