
২০২৬ সালও উষ্ণতম বছরগুলির মধ্যে একটি হতে পারেহাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু দশা পশ্চিমবঙ্গ সহ প্রায় গোটা ভারতের। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, আজ মরসুমের শীতলতম দিন। শ্রীনিকেতনে ৬ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছে তাপমাত্রা। কলকাতায় আজ ১০ ডিগ্রি। দমদমে ৯.৫ ডিগ্রি। মোদ্দা বিষয়, শীত এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ভাঙার পথে। গত বছর অক্টোবরেই bangla.aajtak.in রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছিল, ২০২৫-২৬ সালে শীতের দাপট হাড়কাঁপানো হবে। রিপোর্টটি পড়ুন এখানে।
২০২৬ সালে কেমন গরম পড়বে?
শীতের এই কামড়ের মধ্যেই ২০২৬ সালে গ্রীষ্মের দাপটেরও আভাস মিলল। আবহাওয়াবিদরা যে পূর্বাভাস দিচ্ছেন, তাতে যা বোঝা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের জন্য তৈরি থাকতে হবে। ১৮৫০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত যে ৪টি উষ্ণতম বছর, তার মধ্যে একটি হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এই বছরে গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে।

প্যারিস সামিটের প্রতিশ্রুতি বিশবাঁও জলে
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালে যে রকম গরম পড়েছিল, সেই রেকর্ডকে সম্ভবত ছাপাবে না ২০২৬। তবে ভয়ঙ্করভাবে কাছাকাছি পৌঁছে যাবে সেই ১.৫ ডিগ্রি সীমার। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে বিশ্বের সব দেশ প্রতিশ্রতি দিয়েছিল, ১.৫ ডিগ্রির পেরোবে না বিশ্ব উষ্ণায়ণ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বিশবাঁও জলে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে রেকর্ড গরম পড়েছিল। ভারত সহ বিশ্বের একটি বড় অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ ও ইউরোপের একাধিক দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ভারতে তো আরও অনেক বেশি। একই সঙ্গে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অতিবৃষ্টিও দেখেছে বিশ্ববাসী। ২০২৫ সালে অতিবৃষ্টি ও ধস, বন্যায় তাণ্ডবলীলা দেখেছে ভারত।

২০২৬ সালও উষ্ণতম বছরের তালিকায়
ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট সার্ভিসের রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১৮৫০ ও ১৯০০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ১.৩৪ ডিগ্রি থেকে ১.৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। যার নির্যাস, ২০২৬ সালে মারাত্মক গরমের পূর্বাভাস স্পষ্ট। বারবার বিশ্ব উষ্ণায়ন ১.৪ ডিগ্রি পার করে যাওয়া খুব খারাপ সঙ্কেত। বিশ্বের গড় তাপমাত্রা এখনও পর্যন্ত ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বারবার পেরিয়েছে। গত ৩ বছরে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করে গিয়েছে। ২০২৬ সাল এই উষ্ণতম বছরগুলির মধ্যেই আরও একটি সংযোজন হতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণত চরম ভাবাপন্ন জলবায়ু হয়। মারণ তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, হড়পাবান ও দীর্ঘকালীন খরা হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকায় পৃথিবীর জলবায়ুতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর জেরে এমন কিছু ভয়াবহ ও অপরিবর্তনীয় পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ছে, যেগুলি একবার শুরু হলে আর থামানো যাবে না, যেমন বরফের বিশাল স্তর ভেঙে পড়া বা ব্যাপকভাবে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়া।