চার্লস শোভরাজ-চার্লস শোভরাজ মুক্ত! নেপালের সুপ্রিম কোর্ট (Nepal Supreme Court) বুধবার তাঁর মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছিল। সেই নির্দেশ মেনে শুক্রবার ‘বিকিনি কিলার’ চার্লস শোভরাজকে (Charles Sobhraj) মুক্তি দিল সে দেশের সরকার। ২০ বছর পর কাঠমান্ডু জেলের বাইরে বেরোলেন একাধিক খুন, ধর্ষণ, লুটের ঘটনায় জেলখাটা ৭৮ বছরের এই কুখ্যাত ফরাসি নাগরিক। আজই তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ফ্রান্সে। শোভরাজ আদতে ফরাসী নাগরিক।
সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চার্লসকে পুলিশ ভ্যানে করে নেপালের জেল থেকে বেরোতে দেখা গেছে। শোভরাজের পাসপোর্ট ও ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যেহেতু এই সিরিয়াল কিলার বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের মালিক, তাই তার আসল পাসপোর্ট শনাক্ত করার পরই ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করে ফরাসি দূতাবাস। ৭৮ বছর বয়সী সিরিয়াল কিলারকে অভিবাসন সংক্রান্ত কাজ মেটার পর নির্বাসিত করা হয়েছে। চার্লস শোভরাজের স্ত্রী নিহিতা বিশ্বাস জানান, 'নিরাপত্তার কারণে তাঁকে পাঠানো হয়েছে ফ্রান্সে। তাঁর সার্জারির দরকার।'
Nepal | We're trying to send him back to his family in France by evening for security reasons. After heart surgery, he had some issues. He might need another surgery. Health & family are priorities for him now: Nihita Biswas, Charles Sobhraj's wife, on his release from jail pic.twitter.com/KGtblEjl9s
— ANI (@ANI) December 23, 2022
বলে রাখি, আদালত শোভরাজের বার্ধক্যের কারণে মুক্তির আদেশ দেয়। আদালত মুক্তির ১৫ দিনের মধ্যে তাঁকে নির্বাসিত করারও নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন-৬৫-র 'বিকিনি কিলারে'র সঙ্গে প্রেম-বিয়ে একুশের তরুণীর, কে এই নিহিতা ?
শোভরাজ ভিয়েতনামী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন ফরাসি নাগরিক। সত্তরের দশক এবং আশির দশকের গোড়ায় তাইল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশে মহিলা পর্যটকদের মাদক খাইয়ে খুনের অভিযোগ রয়েছে শোভরাজের বিরুদ্ধে। তাঁর অধিকাংশ শিকারের পরনেই নাকি থাকত বিকিনি। খুনের ধরন দেখে শোভরাজকে বলা হত ‘দ্য স্প্লিটিং কিলার’। হত্যাকাণ্ডের পরে সরীসৃপের মতো মসৃণ পথে পালানোর কায়দা তাকে নাম দিয়েছিল ‘দ্য সারপেন্ট’। পরে একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এই নামেই শোভরাজের জীবনীর অনুকরণে একটি ওয়েব সিরিজ তৈরি করেছিল।
বিশ্বের অপরাধ মানচিত্রে অন্যতম কুখ্যাত এই ‘সিরিয়াল কিলার’ দিল্লিতে ৩ পর্যটককে বিষ খাওয়ানোর অপরাধে ভারতের তিহাড় জেলেও ছিলেন দীর্ঘ দিন। একাধিক ভাষায় পারদর্শী শোভরাজ তার সুদর্শন চেহারা এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগাতেন ‘শিকার’কে বাগে আনতে। একাধিক বার জেল থেকে পালানোর অভিযোগও উঠেছে শোভরাজের বিরুদ্ধে। ১৯৮৬ সালে তিহার থেকেও পালিয়েছিলেন তিনি।
১৯৯৭ সালে ভারত থেকে মুক্তি পেয়ে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন শোভরাজ। এর পর নেপালে গেলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭৫ সালে কাঠমান্ডুতে দুই পর্যটককে খুনের মামলায় শোভরাজকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন জেলের সাজা দিয়েছিল নেপালের আদালত।
আরও পড়ুন-শনিবার থেকে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরছে COVID বিধি