হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও গৌরব গগৈঅসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে প্রকাশিত একটি নতুন জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, NDA জোট এখনও জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের দৌড়েও এগিয়ে আছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ। যার নির্যাস, গৌরব গগৈ বিরোধী দলনেতা হতে পারেন অসমে। অন্তত সমীক্ষা সেটাই বলছে। এই সমীক্ষা প্রকাশ করেছে Vote Vibe LLP তাদের ‘স্টেট ভাইব’ সিরিজের অধীনে।
কীভাবে করা হয়েছে সমীক্ষা
সমীক্ষাটি করা হয়েছে CATI (কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড টেলিফোন ইন্টারভিউ) পদ্ধতিতে। অসমের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২,৬১৬ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পুরুষ: ৫২%, মহিলা: ৪৮%, গ্রামীণ এলাকা: ৮০%, শহরাঞ্চল: ২০%। সামাজিক ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল, তফসিলি জাতি (SC): ৭%, তফসিলি উপজাতি (ST): ১২%, ওবিসি: ১৯%, সাধারণ শ্রেণি: ২২%, মুসলিম: ৩৫%, খ্রিস্টান: ৪%, অন্যান্য: ১%। সমীক্ষার ত্রুটির সীমা ধরা হয়েছে ±৩%।
সরকারের কাজ নিয়ে কী বলছে মানুষ?
সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের কাজ নিয়ে ৫৫.৬% মানুষ ‘ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ মত দিয়েছেন। তবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মতামতে পার্থক্য দেখা গিয়েছে। তফসিলি জাতির মধ্যে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বেশি: ৭১%, মুসলিমদের মধ্যে সন্তুষ্টি সবচেয়ে কম: ৪৪%, মুসলিমদের মধ্যে ৩৫% সরকারকে ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’ বলেছেন। বয়সের ভিত্তিতেও পার্থক্য রয়েছে। ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে সন্তুষ্টি: ৬৬%। ১৮–২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে সন্তুষ্টি: ৫৬%। এই বয়সের ২৯% সরকারকে খারাপ বলেছেন।
পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে চান মানুষ?
সমীক্ষা বলছে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা: ৪৬.৬%, গৌরব গগৈ: ৪১.৭%, অর্থাৎ শর্মা এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান খুব বেশি নয়। তবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ছবিটা আলাদা। ১৮–২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, গৌরব গগৈ: ৬১%, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা: ২৫%। অন্যদিকে সাধারণ শ্রেণি, ওবিসি ও তফসিলি জাতির মধ্যে শর্মার সমর্থন বেশি। সাধারণ শ্রেণি: ৭৯%, ওবিসি: ৬৯%, তফসিলি জাতি: ৭২%, মুসলিম ভোটারদের মধ্যে গগৈর সমর্থন ৬৫%।
নারী-পুরুষের মতের পার্থক্য
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের মধ্যে হিমন্ত শর্মার সমর্থন রয়েছে ৫১%, গৌরব গগৈর সমর্থন রয়েছে ৩৬%, পুরুষদের মধ্যে গগৈ সামান্য এগিয়ে। গৌরব গগৈ ৪৭% ও হিমন্ত বিশ্বশর্মা ৪৩ শতাংশ। সমীক্ষা অনুযায়ী, অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে শাসক জোট এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে তরুণ ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈর উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা যাচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচন হবে একদিকে বিজেপির জন্য 'প্রো-ইনকামবেন্সি টেস্ট', আর অন্যদিকে কংগ্রেসের জন্য 'কামব্যাক টেস্ট'।