অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাঅসমে ভোট যতই এগিয়ে আসছে, মিঞাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ততই ঝাঁঝাল করছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এবারে একেবারে আল্টিমেটাম দিয়ে দিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি যত দিন অসমের ক্ষমতায় থাকবেন, মিঞাদের কপালে দুর্গতি আছে। অসম ছেড়ে যত দিন না ওরা দ্রুত চলে যাচ্ছে, ততদিন সমস্যায় থাকবে। বস্তুত, অসমের এই মিঞাদের নিয়ে প্রথম থেকেই রণংদেহী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত। বারবারই তিনি দাবি করেন, মিয়াঁদের অসম ছাড়তে হবে। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা SIR প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪ লাখ মিঞার নাম বাদ যাবে।
'মিঞারা সবাই অবৈধ বাংলাদেশি'
মিঞারা অসমে মূলত বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়। মূলত, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, খুলনা থেকে এঁরা এসেছিলেন অসমে। সেই মিঞাদেরই এবারের বিধানসভা ভোটে ইস্যু করছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, মিঞারা সবাই অবৈধ বাংলাদেশি, অসমে থাকার তাদের কোনও অধিকার নেই। তাঁর কথায়, 'আমি জানি মিঞারা আমাদের ভোট দেবে না। ওদের উচিত বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া। আমি যতদিন অসমে ক্ষমতায় থাকব, মিয়াঁদের স্বস্তিতে থাকতে দেব না। তা হলেই ওরা অসম ছেড়ে পালাবে।'
হিমন্তের কথায়, 'আসলে আমি ওদের স্বার্থেই কথা বলেছিলাম। আইন অনুযায়ী দেখলে, ওরা এখানে কাজ করতে পারে না। কোনও দেশের নাগরিক সেই দেশেই কাজ করতে পারে। বাংলাদেশ থেকে আসা লোকজন কীভাবে এখানে কাজ করবে?'
অসমে মিয়াঁ কারা ও কত জনসংখ্যা?
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, অসমে মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ। মিয়াঁরা মূলত বাংলাভাষী মুসলমান। এছাড়া অহমীয়া মুসলমানও রয়েছেন। তাঁরা অসমীয়া ভাষাতেই কথা বলেন। মূলত, ধুবরি, বরপেটা, গোয়ালপাড়া, মরিগাঁও, নগাঁওয়ে মিঞাদের বেশি বসবাস।
মিয়াঁদের বিরুদ্ধে লাভ জিহাদ ও ফার্টিলাইজার জিহাদের অভিযোগ
হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য, যদি মিঞারা তাদের স্বার্থে আমার কথা বলা মেনে নিতে না পারে, তাহলে আমাকে তাদের বিরুদ্ধেই কাজ করতে হবে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী জনগণনায় 'বাংলাদেশি মুসলমানরা' অসমের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। মিয়াঁদের বিরুদ্ধে লভ জিহাদ ও ফার্টিলাইজার জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ হিমন্তের।
বারবার অসমের মিঞাদের টার্গেট করায় গত সপ্তাহেই হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল'বোর্ড।