নির্বাচনী আবহে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শ্যুটিং ভিডিও ভাইরালঅসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি ভিডিও ঘিরে অসম তথা দেশজুড়েই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ইতিমধ্যেই ভিডিওটি ডিলিট করা হলেও সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-সহ সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের একাধিক বক্তব্য উস্কানিমূলক বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
PIL-এ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একাধিক মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে 'মিয়া মুসলিম', 'ফ্লাড জিহাদ' -এর মতো বক্তব্যও। আসলে একাধিকবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে এই শব্দ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। জনস্বার্থ মামলা দায়েরকারীর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। যা আসলে সাম্য, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভ্রাতৃত্বের সাংবিধানিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কোন ভিডিও ঘিরে শোরগোল?
সম্প্রতি অসম বিজেপির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী টুপি পরা, দাঁড়িওয়ালা কিছু মুখে বন্দুক তুলে গুলি করছেন। যদিও এর পুরো দৃশ্যটা মোটেই আসল ভিডিও নয়। বেশিরভাগ অংশটাই AI ব্যবহার করে বানানো। প্রথম দৃশ্যের পর টেক্সটের মাধ্যমে ভিডিওতে লেখা আসে 'বিদেশি মুক্ত অসম', 'কোনও ক্ষমা নেই' -এর মতো বাক্য। মামলা দায়েরকারীর দাবি, এগুলি প্রতিটিই সাম্প্রদায়িক বিতর্ক উস্কে দেওয়ার মতো কথা।
ওই ভিডিওরই কিছু অংশে অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে ওয়েস্টার্ন সিনেমার নায়কের মতো দেখানো হয়েছে। ভিডিওর ওই অংশে অসমীয়া ভাষায় লেখা বার্তায় ছিল "তুমি পাকিস্তানে চলে যাওনি কেন?" এবং "বাংলাদেশিদের জন্য কোনও ক্ষমা নেই।" মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে, অসমে বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিমদের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার মধ্যে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৯ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য অসমে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। জেলা পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক ও প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র আধিকারিকের উপস্থিতিতেই এই প্রস্তুতি পর্যালোচনা শুরু করা হয়।
রবি ও সোমবার এই দু'দিন পর্যালোচনা করা হয়। প্রথম দিনে জেলা পর্যায়ের প্রস্তুতির মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), আইজি এবং ডিআইজি সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক, এবং পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টরাও এই বৈঠকে হাজির ছিলেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দিন আদর্শ আচরণবিধির কার্যকর ও বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী আইনের কঠোরভাবে মেনে চলার উপর আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এই দিনেই ভোটের কাজে থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে সম্বন্বয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।