এবার একাই লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিল JMM। JMM Assam election 2026: কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা হল না। অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়া না হওয়ায় এবার একাই লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিল JMM। অসমে মোট ১৯টি আসনে প্রার্থী দেবে তারা। এমনটাই জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, শুরুতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ভোটে নামার চেষ্টা করেছিল JMM। সেই লক্ষ্যে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও করেন। একাধিক দফায় আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন AICC-র সাধারণ সম্পাদক জিতেন্দ্র সিং এবং অসম কংগ্রেসের নেতা গৌরব গগৈ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত্য হয়নি।
এর পরেই স্ট্র্যাটেজি বদল করে JMM। দলের সাধারণ সম্পাদক বিনোদ পাণ্ডে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অসমে এবার 'নো কংগ্রেস, নো বিজেপি', অবস্থান নিয়েই ভোটে নামবে তারা। 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসমে JMM-র এই একা লড়ার পিছনে একাধিক কারণও রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্ট নিঃসন্দেহে চা বাগানের শ্রমিক ভোটব্যাঙ্ক। প্রায় ৭০ লক্ষ চা শ্রমিক অসমে কাজ করেন। এঁদের একটি বড় অংশ ঝাড়খণ্ড ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আসেন। ফলে তাঁদের মধ্যে JMM-র প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা যথেষ্ট। বিশেষ করে আদিবাসী অধিকার এবং জমি মালিকানা সংক্রান্ত ইস্যুতে এই ভোটব্যাঙ্ককে পাশে পেতে চাইছে JMM।
ইতিমধ্যেই হেমন্ত সোরেন অসমে একাধিক জনসভা করেছেন। প্রতিটি সভাতেই ভিড় লক্ষ্য করার মতো। ফলে সেই ভিড়কে ভোটে রূপান্তর করতে পারলেই JMM কিছু আসনে চমক দিতে পারে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
একটি বিষয় স্পষ্ট। নির্বাচনে দলের প্রধান মুখ হেমন্ত সোরেন এবং কল্পনা সোরেনই হবেন। তাঁদেরকেই মূল তারকা ক্যাম্পেইনার হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মাজবাট আসনে প্রীতি রেখা বারলা এবং সোনারি আসনে বলদেব তেলিকে প্রার্থী করা হয়েছে।
অসমে আগামী ৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ। ফল ঘোষণা ৪ মে। এহেন পরিস্থিতিতে JMM-র একা লড়ার সিদ্ধান্তে কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি ও কংগ্রেস; এই দুই প্রধান শক্তির বাইরে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে কি JMM জায়গা করে নিতে পারবে? তার উত্তর সময়ই দেবে।