কীভাবে টাকা বাড়ালেন মমতাভোটের আগে বাজাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাড়াবেন এমনটাই আশা ছিল। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল ধারণা করছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্য সরকার এদিনের বাজেটে বড়সড় চমক দিতে পারে। সেই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক ধাক্কায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানো হল। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হবে এই ঘোষণা।
আজ বিধানসভায় অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেটে ঘোষণা করেন ৫০০ টাকা করে বাড়ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এখন থেকে সাধারণ মহিলার ১০০০ টাকার জায়গায় ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তরা ১২০০০ টাকার জায়গায় ১৭০০ টাকা করে পাবেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে শুরু হওয়া লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে মহিলা ভোটারদের মন জয়ে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে সেই কথা রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। প্রথমে মাসে ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল। গত লোকসভা ভোটের আগে এক ধাক্কায় তা বাড়ানো হয়েছিল। সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলাদের জন্য মাসে এক হাজার টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের মাসে ১২০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তার সুফলও পেয়েছিল রাজ্যের শাসকদল। মহিলা ভোটাররা দু-হাত উজাড় করে ঘাসফুলে ভোট দিয়েছিল। গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র এই প্রকল্পের মাধ্যমেই মহিলাদের হাতে ৭৪ হাজার কোটি নগদ টাকার জোগান দিয়েছে রাজ্য সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ হয়েছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ১ কোটি ৪১ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পান।
বর্তমানে কোটি কোটি মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসেন। ভোটের মুখে এই ভাতা বৃদ্ধিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক বলছেন। বর্তমানে রাজ্যে মোট সাড়ে ৭ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী। ফলে এই বিপুল সংখ্যক ভোটদাতার মন জয় করতে ভাতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।