সুনালীর সঙ্গে সাক্ষাতে অভিষেক আজ বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের 'নম্বর ২' তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আজ রামপুরহাটে সভা করবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের 'পুশব্যাক' করা রামপুরহাটের বাসিন্দা সুনালী খাতুনের সঙ্গেও আজ দেখা করবেন বলে খবর। আর অভিষেকের সুনালীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়েই নানা অঙ্ক কষছে রাজনৈতিক মহল। অনেকেই এই সাক্ষাতকে বীরভূমের ভোট রাজনীতির অংশ বলেই মনে করছেন।
মাথায় রাখতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার সুনালীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার তৎপর হয়ে ওঠে। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারতে ফেরেন সুনালী। আর সেই কৃতিত্ব নিজের কাছে রাখতে চায় তৃণমূল। তার মাধ্যমে বীরভূমের পাশাপাশি সারা বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পাশে থাকার বার্তাও স্পষ্ট করতে চায় তারা। সেই কারণেই অভিষেক আজ সুনালীর সঙ্গে দেখা করছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
বীরভূমের ভোট অঙ্ক বুঝে নিন
এক সময়ের বাম দুর্গে এখন সবুজ ঝড় ওঠে। বিধানসভা থেকে লোকসভা, সর্বত্রই তৃণমূলের জয়জয়কার। আর তৃণমূলের এই জয়ের কৃতিত্ব যতই অনুব্রত মণ্ডল বা কাজল শেখরা নিতে চান না কেন, এই জয়ের নেপথ্য কারিগর মোটের উপর মুসলিম ভোটই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় একজোট হয়ে তৃণমূলকে ভোট দেয় বলেই ঘাসফুল ফোটে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
২০২১-এ কী হয়েছিল?
বীরভূমে মোট ১১টি বিধানসভা রয়েছে। আর গত বিধানসভা ভোটে ১০টিই জিতেছে তৃণমূল। মাত্র একটি যায় বিজেপির দখলে। আর লোকসভা ভোটে রামপুরহাট এবং বোলপুর, দু'টির দুটিই জিতে নেয় তৃণমূল। আর এমন ফলাফলের পিছনে অবশ্যই মুসলিম ভোটের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
যতদূর জানা যায়, মুরারইতে প্রায় ৭০% - ৭৪% মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এছাড়া নলহাটি ৫০% - ৫৫%, হাসানে ৪৬% - ৫০%, রামপুরহাটে ৩৫% - ৪০%, সিউড়িতে ২৬% - ৩১%, সাঁইথিয়াতে ২৪% - ২৫%, দুবরাজপুরে ৩২% - ৩৩% সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে।
তবে বোলপুরের আশপাশে সংখ্যালঘু তুলনায় একটু কম। নানুরে ৩৫% - ৩৭%, লাভপুর ৩০% - ৩২%, ময়ূরেশ্বর ২৬% - ২৭% এবং বোলপুরে ২৫% - ২৭% মুসলিম ভোট রয়েছে। আর এই কথা বলাই বাহুল্য যে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপি উঠে আসার পর পুরো মুসলিম ভোটটা মোটামুটি তৃণমূলই পায়। আর সুনালীর সঙ্গে দেখা করে এই বিরাট সংখ্যক মুসলিম ভোটকেই বার্তা দিতে চান অভিষেক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
কেষ্ট-কাজল দ্বন্দ্ব
বীরভূমের মাটিতে ঘাসফুল ফুটলেও অনুব্রত এবং কাজলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। আর সেই দ্বন্দ্ব নিয়ে বারবারই বিড়াম্বনায় পড়তে হয় তৃণমূলকে। এমনকী ভোটের সময়ও অপ্রস্তুত হতে হয়। আর বীরভূমে গিয়ে সেই সমস্যার সহজ সমাধান খুঁজতে পারেন অভিষেক বলেও মনে করছেন অনেকে। আর এই কাজটা যদি তিনি ঠিক ঠাক করে ফেলতে পারেন, তাহলে বীরভূম জয় যে এক প্রকার নিশ্চিত, সেটা অনায়াসে বলা যায়।