West Bengal Assembly Elections 2026: প্রায় ৫০ বছর পর দু'দফায় ভোট, হিংসা রুখতে ২ হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায়

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আট দফার ভোট পরিচালনার জন্য প্রায় ১,০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি। সেই নির্বাচনের সময় কোচবিহারের শীতলখুঁচি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

Advertisement
প্রায় ৫০ বছর পর দু'দফায় ভোট, হিংসা রুখতে ২ হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায়Central Force
হাইলাইটস
  • প্রায় পঁচিশ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে আবার দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
  • নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে এবার ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, এই দুই দিনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০ বছর পর আবার দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শেষবার ১৯৭৭ সালে রাজ্যে দুই দিনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সে বছর জুন মাসে ১১ ও ১৪ জুন ভোট হয়। এরপর ২১ জুন জ্য়োতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে এবং রাজ্যে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের সূচনা হয়।

তারপর দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে এক দফাতেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২০০১ সাল পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচন একদিনেই সম্পন্ন করা হতো। কিন্তু ২০০৬ সাল থেকে ভোটের দফা বাড়তে শুরু করে। ওই বছর প্রথমবার এক লাফে পাঁচ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী সময়ে দফার সংখ্যা আরও বেড়েছে। ২০১১ সালে ছয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ২০১৬ সালে সাত দফায় এবং ২০২১ সালে আট দফায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এবার ২০২৬ সালে আবার প্রায় ৫০ বছর পর রাজ্যে দুই দফায় বিধানসভা ভোট হতে চলেছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দিল্লির ‘নির্বাচন সদন’-এ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর দফার সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচন পরিচালনা আরও কার্যকর ও সুবিধাজনক হয়। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি রাজ্য, অসম, কেরলম, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরীতে ভোট হবে একদিনেই।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আট দফার ভোট পরিচালনার জন্য প্রায় ১,০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি। সেই নির্বাচনের সময় কোচবিহারের শীতলখুঁচি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

এবারের নির্বাচন ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এলাকায় টহল বা ‘এরিয়া ডমিনেশন’, ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি, ভোটের দিনে নিরাপত্তা প্রদান এবং ইভিএম স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়া।

Advertisement

১ মার্চ প্রথম দফায় রাজ্যে আসে ১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ ও ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, পাশাপাশি সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। পরে ১০ মার্চ আরও ১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ ও ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ-সহ অতিরিক্ত বাহিনী রাজ্যে পৌঁছেছে।

কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে টহল দিলেও ইতিমধ্যেই কয়েকটি অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। ১০ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করা হয়। পাশাপাশি উত্তর কলকাতার গিরীশ পার্ক এলাকায় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে, যার জন্য বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন থেকে গণনা ৪ মে পর্যন্ত পুরো সময়ে রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে ২,০০০-এরও বেশি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে।

এর পাশাপাশি ভোটার তালিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪৫ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং সম্পূরক তালিকা প্রকাশের অপেক্ষা চলছে। নির্বাচন কমিশনের আশঙ্কা, এই তালিকা প্রকাশের পর যদি বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ে, তবে কিছু এলাকায় উত্তেজনা বা হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিচারাধীন বা বিতর্কিত ভোটার তালিকার বেশিরভাগ ঘটনাই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে, যেমন উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, নদিয়া, মূর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ যখন গত সপ্তাহে কলকাতায় বৈঠক করছিল, তখন বিজেপি এবং সিপিএম দাবি জানায়, নির্বাচন যেন এক বা দুই দফাতেই সম্পন্ন করা হয়।
 

 

POST A COMMENT
Advertisement