মিম এবং হুমায়ুনের জোটপশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে নতুন সমীকরণ। এবার ছাব্বিশের 'মিশন নবান্নর' আগে 'অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন' বা AIMIM প্রবেশ করল বাংলায়। এই দলটি মিম নামেই বেশি পরিচিত।
মিমের প্রধান আসাদউদ্দীন ওয়াইসি ঘোষণা করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তারা লড়বে। হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট করেই তারা ময়দানে নামবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সেই মতো একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে ২৫ মার্চ। সেখানে উপস্থিত থাকবেন ওয়াইসি এবং হুমায়ুন দুই জনই। সেখানেই জোট নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে বলি, ইতিমধ্যেই হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২০২৬ -এর ভোটের জন্য ১৮২টি সিটে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। আর তাদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে এবার ভোটে লড়তে চলেছে মিম। তারা মোটামুটি ৮টা সিটে প্রার্থী দিতে পারে বলে খবর।
আর এই ভোটে হুমায়ুন নিজেও তিনটি সিটে লড়ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভগবানগোলা, নওদা ও রেজিনগর। এই তিনটি সিটই রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।
মাথায় রাখতে হবে, হুমায়ুন হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক। তাঁকে দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এমন পরিস্থিতিতে তিনি নতুন পার্টি তৈরি করেছেন। তাঁর দলের নাম আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। আর সেই পার্টির কাজকর্ম দেখার জন্য এখন অত্যন্ত ব্যস্ত হুমায়ুন। ইতিমধ্যেই তার দলের তরফ থেকে ১৮২টি সিটে প্রার্থী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আর মিম দিতে পারে ৮টি আসনে প্রার্থী।
তবে শুধু মিম নয়, এর আগেও একাধিক পার্টির সঙ্গে জোট বৈঠক করেছেন হুমায়ুন। তাঁর সঙ্গে কথা হয় সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমেরও। কিন্তু সেই বৈঠক তেমন একটা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই নির্বাচনী সমঝোতা হয়নি। যদিও হাল ছাড়ার পাত্র নন হুমায়ুন। তাই তিনি একাধিক সঙ্গী খুঁজেছেন। আর সেই কাজেই তাঁর হাত ধরেছে মিম। আর এই জোট যে সংখ্যালঘু ভোটকে একত্রিত করে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে পারে, এই কথাটা অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন।
বাবরি তৈরি করছেন
মুর্শিদাবাদের রাজনীতির অন্যতম মুখ হুমায়ুন। তিনি জেলার পালস বোঝেন। তাই ভোটের আগেই একটা সেরার সেরা চাল দিয়েছেন তিনি। মুর্শিদাবাদে বাবরি তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। সেই মতো এগিয়ে গিয়েছে কাজ। আর তাঁর এই প্ল্যানিং যে ভোট যুদ্ধেও অনেকটা মাইলেজ দিতে পারে, সেটা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।