
মা-মাটি-মানুষ বলে ক্ষমতায় এসেছিল মমতার সরকার। আর সেই মাটি এখন অনুপ্রবেশকারীরা হজম করছে, মহিলাদের নিরাপত্তা নেই। শনিবার ব্যারাকপুরের কর্মিসভা থেকে এমন ভাবেই আক্রমণ করলেন রাজ্যের শাসকদলকে। তিনি বলেন, 'মা-মাটি এবং মানুষ রক্ষা করতে গেলে BJP সরকার গড়তে হবে।' আর BJP ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজদের খুঁজে খুঁজে জেলে ভরা হবে। গুনে গুনে উল্লেখ করেছেন ১৪ জন নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কের নাম যাঁরা দুর্নীতির অভিযোগে জেল খেটেছেন।
অমিত শাহের কথায়, 'সব সীমা অতিক্রম করেছে দু্র্নীতি। এখানকার মানুষ সিন্ডিকেট নিয়ে বিরক্ত। গুণ্ডাদের হাতে যায় টাকা। এই সরকারের কি থাকা উচিত?' এরপরই রাজ্যের নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কদের নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মদন মিত্র, পরেশ পাল, মানিক ভট্টাচার্য, অজিত মাইতি, চন্দ্রনাথ সিংহ, কুন্তল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অনুব্রত মণ্ডল, সকলেই জেলে গিয়েছেন। আমাদের সরকার গড়তে দিন, বাকিদেরও ভরে দেব। মমতাজি, সাহস থাকলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইলে, এঁদের টিকিট দেবেন না। ওঁদের টিকিট না দিলে ওঁরা ভাইপোর নাম বলে দেবে। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির তদন্ত করব। এক এক জন দুর্নীতিগ্রস্তকে বেছে বেছে জেলে ঢোকাব।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, 'মমতার শাসনে দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠান করে ফেলেছে। SSC, পুরসভা নিয়োগ, গরু, ১০০ দিনের কাজ, পিএম আবাস যোজনা দুর্নীতি হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছে। মমতাজি, আপনার চোখে পড়ে না। ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার স্বপ্নে আপনার চোখে ছানি পড়েছে। বাংলার মানুষ ছানির অস্ত্রোপচার করে দেবে। আপনার চোখে সব পড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও সন্তুষ্ট নয় বলে জানান অমিত শাহ। তাঁর কথায়, 'শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করেছিলেন, নয়তো আজ তা বাংলাদেশের অংশ হত। আজ তাঁর দল দেশে ২১ রাজ্যে সরকার গড়েছে। কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট নেই। তখনই মোদীজি এবং আমরা হাসব, যখন ২২তম রাজ্য হিসেবে বাংলা জিতব। এই হবে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা। শ্যামাপ্রসাদের জন্যও এটাই হবে শ্রদ্ধাঞ্জলি।'