আতর আলিপ্যারা অ্যাথলেটিকে সোনা জিতেছেন। তবুও তাঁর নাম নেই ভোটার লিস্টে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রানাঘাটের আতর আলি। তাঁর নাম প্রথমে ডিলিট হয়ে যায়। এরপর নানা জায়গায় আবেদন করেও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই আতর যোগাযোগ করেছেন এসডিপিও, জেলাশাসকদের সঙ্গে। আর তার মধ্যেই নদিয়ার জেলা শাসকের করা মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক।
কী প্রশ্ন করেন জেলাশাসক?
bangla.aajtak.in-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আতর বলেন, ' আমাকে এসডিও জানান জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করতে। প্রথমে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা একটা ঘরে বসে থাকতে হয়। এরপর এসডিও ফোন করে জানতে পারেন আমি বসে রয়েছি। তারপর তড়িঘড়ি পরিস্থিতি বদল হয়।' এরপরেই জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান দেশকে সোনা এনে দেওয়া প্যারা অ্যাথলিট। এরপর আতর বলেন, 'জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করতে যেতেই তিনি হিন্দিতে প্রশ্ন করেন, আপনার বাবারা কবে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?' প্রশ্ন শুনে আকাশ থেকে পড়েন আতর।
মা-বাবার জন্ম ভারতেই, দাবি আতরের
প্যারা অ্যাথলিট বলেন, 'প্রশ্ন শুনে আমি অবাক। আমার বাবা-মায়ের জন্ম ভারতে, তারা মারা গিয়েছেন এদেশে। অথচ জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী বললেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি কিনা।' এসআইআরের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৬০ লক্ষ নাম। যদিও পরবর্তীতে অতিরিক্ত তালিকায় উঠেছে তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ নাম। তবে বহু নাম 'ডিলিট' হয়ে গিয়েছে। সেই বাদের তালিকায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্যারা অ্যাথলিট আতর আলি।
মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন আতর
তিনি বলেন, 'সম্প্রতি তিনি ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজতে গিয়ে দেখেন নাম 'ডিলিটেড।' অথচ তাঁর কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণ করে এমন সমস্ত নথি রয়েছে। এই ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নিজের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে রানাঘাটের এসডিও অফিস, বিডিও অফিস এবং সবশেষে ডিএম সাহেবের সঙ্গেও দেখা করেছেন। সামনে জার্মানিতে এশিয়ান গেমসের বড় আসর রয়েছে। তাতে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর।' নির্বাচন কমিশনের কাছে আতর আলির আর্জি, তারা যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখেন। যথাযথ তথ্য যাচাই না করে যেন কারও নাম তালিকা থেকে বাদ না দেওয়া হয়। রানাঘাটের আনুলিয়া পঞ্চায়েতের শ্রীনাথপুরের বাসিন্দা আতর।