বন্দে মাতরম ইস্যুতে তোলপাড়াসরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত 'জনগণমন'-এর আগেই গাইতে হবে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'। এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র দফতর। আর এই নির্দেশ ঘিরেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ইস্যু নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রের শাসক বিজেপি এবং রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে উঠেছে।
নতুুন এই নির্দেশিকা নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের তরফে এ দিন ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন।
আজ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বলেন, 'বঙ্কিমচন্দ্রের গরিমা তুলে ধরার বিষয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এটা করতে গিয়ে আসলে রবীন্দ্রনাথকে ছোট করা হচ্ছে।’
ও দিকে রাজ্যের অপর এক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও এই ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বলে ডেকেছিলেন। যেন চায়ের দোকানে বসতেন! সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতেই এমন নির্দেশিকা।’
রবীন্দ্রনাথ সাম্প্রদায়িক ছিলেন না
এ দিন ব্রাত্য রবীন্দ্রনাথের ধর্মনিরপেক্ষ রূপও তুলে ধরেন সকলের সামনে। তিনি বলেন, ‘হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলি রবীন্দ্রনাথকে কোনওদিনই পছন্দ করে না। কারণ, তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন। সারাজীবন সব ধর্ম এবং বর্ণের মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা করেছেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর লেখাতেও তা বারংবার উঠে এসেছে। সে কারণেই রবীন্দ্রনাথ ওদের (বিজেপি) অপছন্দের।’
পাশাপাশি ব্রাত্যের দাবি, মাস তিনেকের জন্য এই নির্দেশিকা থাকবে। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এরপর আর কেউ এই নির্দেশিকার খোঁজ রাখবে না।
বিজেপির কী দাবি?
যদিও প্রথম থেকেই এই দাবি মানতে চায়নি বিজেপি। বরং তাঁরা বন্দে মাতরম-কে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি বলেই বারবার অভিযোগ করে এসেছেন। এমনকী নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়কে (সংখ্যালঘু পড়ুন) খুশি করতেই এই গানের একাধিক স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে তাঁদের পক্ষ থেকে।
নতুন এই নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বুধবার বন্দে মাতরম নিয়ে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এখন থেকে বন্দে মাতরম-এর মোট ৬টি স্তবক গাইতে হবে। মোট ১৯০ সেকেন্ড বা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড ধরে গাইতে হবে গানটি।
কখন গাইতে হবে?
জাতীয় পতাকা উন্মোচনের সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এবং পরে, সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল এবং উপরাজ্যপাল (লেফটেন্যান্ট গভর্নর)-দের আগমন-প্রস্থানের সময় অবশ্যই গাইতে হবে বন্দে মাতরম।
আর এই নির্দেশিকা নিয়েই তুঙ্গে রয়েছে চর্চা। রাজনীতির মারপ্যাঁচ শুরু হয়ে গিয়েছে।