বিকাশ ভট্টাচার্য 'কুখাদ্যভোজী CPIM প্রার্থী। আমাদের বাড়িতে গৃহদেবতার পুজো হয়। তাই ভোট চাইতে এসে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করবেন না।' CPIM প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সম্পর্কে এমন পোস্টার সম্প্রতি দেখা গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নাম ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাদবপুরের মানুষের মনে বিরূপ মনোভাব? পিছু ছাড়ছে না গোমাংস ভক্ষণ বিতর্ক? bangla.aajtak.in-এ এই নিয়ে মুখ খুললেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।
বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, 'ওটা ২০১৯ সালের পোস্টার।' উল্লেখ্য, সে বছর তিনি লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন যাদবপুর কেন্দ্র থেকে। যদিও তৃণমূলের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। বিকাশের কথায়, 'আমি এখন এমন কোনও পোস্টার দেখিনি। আমায় কেউ বলেওনি যে তাদের বাড়িতে যেন ভোট প্রচার করতে না যাই। কারণ প্রায় সব বাড়িতেই যাচ্ছি। কোথাও এমন প্রতিক্রিয়া পাইনি।'
রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁর গোরুর মাংস খাওয়ার সেই ঘটনাকে এখনও প্রতিবাদ বলেই ব্যাখ্যা করেন বিকাশ। তাঁর কথায়, 'ওটা উৎসব নয়, প্রতিবাদ ছিল। যা রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের থেকে আমরা শিখেছি। নিজের পছন্দ অনুযায়ী মাংস খাওয়া অপরাধ নাকি? BJP মানবসভ্যতার সঙ্গে অপরাধ করেছে, নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী মাংস বাড়িতে রাখার জন্য পিটিয়ে মেরেছে ওরা। সেটা আড়াল করতেই আমাকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করে তোলা হয়।' তাঁর আবারও প্রশ্ন, 'হিন্দুশাস্ত্রে কোথায় লেখা আছে গোমাংস খাওয়া অপরাধ? আমি অনেকবার বলেছি ওরা দেখাতে পারেনি। তাই আমাকে হিন্দুশাস্ত্র বিরোধী দাগিয়ে দিয়েছে। মাংস খাওয়ার সঙ্গে ধর্মের কী সম্পর্ক?'
তবে ৭৫ বছর বয়সী বিকাশ ভট্টাচার্যের চিকিৎসক স্বাস্থ্যজনিত কারণেই তাঁকে রেড মিট খেতে বারণ করেছেন। নিষেধ রয়েছে তেল, ঘি দেওয়া খাবারেও।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মের বিরোধিতা করে একাধিকবার তাঁর পোস্ট নিয়ে চর্চা হয়েছে। বিতর্ক, সমালোচনা প্রসঙ্গ বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, 'আগে মানুষ না আগে ধর্ম? মানুষের রুচিবোধ পাল্টেছে। রবীন্দ্রনাথের লাইন ধার করে বলতে হয়, তুচ্ছ আচারের মরুবালু রাশি। বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি।' CPIM প্রার্থীর সংযোজন, 'ডাক্তার যদি বলে স্বাস্থ্যের জন্য রেড মিট খাওয়া বন্ধ করুন, আমি সবার আগে প্রচার করব। কিন্তু যে রেড মিট খেলে তাকে পিটিয়ে মেরে দেবে? এই হচ্ছে সনাতনীদের যুক্তি। হিন্দু ধর্ম কিন্তু এ কথা বলে না। '