হুমায়ুন কবীর, বিমান বসু তিনিই নাকি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এক্স ফ্যাক্টর। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নও দেখছেন। আর তার জন্য বাম-কংগ্রেসের সঙ্গেও জোট গড়ার প্রস্তাব দিতে পারেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু বামেরা কি তাঁর এই প্রস্তাবে রাজি? কী বললেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু?
ছাব্বিশের নির্বাচনে কি হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টিকে জোটের শরিক হিসেবে মেনে নেবে বামফ্রন্ট? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ষীয়ান বাম নেতা শুক্রবার জানান, হুমায়ুনের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।
বিমান বসুকে সাংবাদিকরা এদিন প্রশ্ন করেছিলেন, বামেদের জোটসঙ্গী হিসেবে চাইছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁকে কি জোটের শরিক হিসেবে নেবে বামফ্রন্ট? এই প্রশ্নের উত্তরে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বলেন, 'হুমায়ুন কবীররা তো কথা বলেনি। তারা মাধ্যম দিয়ে কথা বলছে। এখনও সেটা আমাদের আলোচ্য সূচিতে আসেনি।' তবে হুমায়ুন সঠিক ভাবে আবেদন জানালে তাঁর সঙ্গে জোট নিয়ে কী ভাবনাচিন্তা করবে বামফ্রন্ট তা অবশ্য স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে, হুমায়ুন কবীর আবার BJP-র সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা, এমনকী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে লড়তে প্রস্তুত ISF। কলকাতায় শহিদ মিনারের সভা থেকে এ কথা ঘোষণা করেছেন দলের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। নওশাদ বলেন, 'কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং সমস্ত দল যারা গণতন্ত্রকে মান্যতা দিয়ে চলে ও সংবিধানের নিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দেয়, আমরা তাদেরকে আমরা গ্রহণ করব।' একইসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর কথা বলছি না। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার সহ গোটা BJP-কে হারানোর কথা বলছি।'
CPIM কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর প্রকাশিত ইস্তেহারে বলা হয়েছে, 'পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং BJP, উভয়কে পরাজিত করতে আমরা লড়ব। কারণ তারা সমাজে মেরুকরণের চেষ্টা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সমস্ত শক্তিকে একত্রিত করার চেষ্টা করব।' সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে কিছু না বলা বলেও ISF বিধায়কের বার্তা বামেরা ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করতে চলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।