মমতার বঙ্গভবন অভিযান নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দুরদিল্লি পুলিশের 'অতিসক্রিয়তা' নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, SIR-এ ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এর পাল্টা জবাবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'অতিসক্রিয়' বিশেষণটি তৃণমূল সরকার ও তাদের পুলিশের জন্যই মানানসই, যারা বাংলায় বিরোধী কার্যকলাপে 'জোরপূর্বক কৌশল' ব্যবহার করে।
পাশাপাশি, নাটক করে রাজ্যের গাফিলতি ও মিথ্যাচার আড়াল করতেই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে চলতে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতা, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি থেকে নজর ঘোরাতেই পরিকল্পিত ভাবে এই নাটক করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, রাজ্যের বুথ লেভেল অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ভুলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর জেরে অকারণে বিপুল সংখ্যক মানুষকে শুনানির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যাতে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দোষ চাপাতে পারে।
শুভেন্দু বলেন, 'এই রাজ্য সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যাগত চরিত্র বদলে দিয়েছে। অথচ রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি ভয়াবহ। স্কুল আছে কিন্তু শিক্ষক নেই, ছাত্র নেই, শিল্প নেই, চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মানুষ পুড়ে মরছে, অথচ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসবের জন্য সময় নেই।'
শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, 'মুখ্যমন্ত্রী রাতের পোশাক পরে গেলেও মাইক নিতে ভোলেননি। তিনি শাড়ি বদলের সময় পেলেন না।' শুরুতে যে নাটক করা হয়েছিল, তা বেশিক্ষণ চলেনি বলেও তাঁর দাবি। এই প্রসঙ্গে তিনি দিল্লি পুলিশের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, 'যে সরকার আমার বিরুদ্ধে ৮৬টি মিথ্যা মামলা করেছে, রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি পেতে ১০৪ বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ করেছে এবং ১১ মাসের বেশি বিধানসভার বাইরে রেখেছে, তাদের মুখে এমন অভিযোগ 'হাস্যকর' ও 'ফাঁপা' শোনায়।'
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের উদ্বেগ 'মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তৈরি করেছেন'। তিনি জানান, বিজেপি এর প্রতিবাদে রাজ্যের ২৩টি জেলা সদর দফতরে বিক্ষোভ করবে। এদিন বিজেপি বিধায়কদের একটি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে রাজভবনে যান রাজ্যপাল। সেখানে সিভি আনন্দ বোসের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।