BNP government West Bengal Election: বাংলাদেশে কুর্সিতে BNP, পশ্চিমবঙ্গের ভোটে যে যে প্রভাব পড়তে পারে...

গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তারপর অবশেষে এল ভোট। সেই ভোটে এগিয়ে রয়েছে BNP বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি। আর বিএনপি-এর এই জয়ের বিরাট তাৎপর্য রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকী ভারতের জন্যও এই ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দেশের ৪০০০ কিমি-এর দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। আর এই সীমান্ত বরাবর আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে কিছুদিনের মধ্যেই রয়েছে ভোট।

Advertisement
বাংলাদেশে কুর্সিতে BNP, পশ্চিমবঙ্গের ভোটে যে যে প্রভাব পড়তে পারে...পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বিএনপি-এর প্রভাব
হাইলাইটস
  • গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দেশের ৪০০০ কিমি-এর দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে
  • এই সীমান্ত বরাবর আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে কিছুদিনের মধ্যেই রয়েছে ভোট

গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তারপর অবশেষে এল ভোট। সেই ভোটে এগিয়ে রয়েছে BNP বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি। আর বিএনপি-এর এই জয়ের বিরাট তাৎপর্য রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকী ভারতের জন্যও এই ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দেশের ৪০০০ কিমি-এর দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। আর এই সীমান্ত বরাবর আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে কিছুদিনের মধ্যেই রয়েছে ভোট।

মাথায় রাখতে হবে যে, ভারতের কোনও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের এই সীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ। তাই ভারতের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি শান্ত বাংলাদেশ থাকা খুবই জরুরি।

পশ্চিমবঙ্গে কী হবে?
সামনেই ভোট। আর তার আগেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু বিরাট করে সামনে এনেছিল বিজেপি। এমনকী বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বিষয়টিও বিজেপির রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা গত কয়েক মাস ধরে বাংলায় এই দুই ইস্যুকে সামনে এনেছে।

ইতিমধ্যেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্র আকার নিয়েছে। আর বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলার রাজনৈতিক ন্যারেটিভে কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

বিজেপি আগে কী দাবি করেছে? 
এতদিন বিজেপির তরফে বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস সরকারকে নিশানা করা হচ্ছিল। অনুপ্রবেশ ইস্যু হোক বা বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার অভিযোগ, সবকিছুতেই কাঠগড়ায় ছিলেন ইউনূস। এমনকী ইউনূসের কুশপুতুল দাহ করাও হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন পর্যন্ত মিছিলও করেছে বিজেপি। এই তো হিন্দু যুবক দীপ দাসের মৃত্যুর পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শতাধিক সাধুসন্ত নিয়ে বিজেপি বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে এগিয়ে যায়।

তাই এটা সহজেই বলা যায় যে, বাংলায় বিজেপির রাজনীতির বড় অংশই বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পরও কি বিজেপি বাংলাদেশ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনীতি চালিয়ে যাবে, নাকি তারা অন্য কোনও লাইন খুঁজবে?

Advertisement

তৃণমূলের কী দাবি? 
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ছেড়ে কথা বলতে রাজি নয় তৃণমূলও। তারা অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিএসএফ-কে দায়ী করে আসছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে স্থিতিশীল সরকার তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক লাভের কারণ হতে পারে। 


তবে রাজনীতির বেড়াজাল পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের এই ফলাফল ভারতের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আসলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বহু অংশে এখনও সম্পূর্ণ বেড়া নেই। এই সব এলাকায় গবাদি পশু পাচার, মাদক ব্যবসা ও জাল নোটের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। আর সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বাংলাদেশের বিএনপি সরকার। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

অস্থির বাংলাদেশ বড় উদ্বেগ
বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয়। একটি শক্তিশালী সরকার থাকলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সহজ হবে। ভারত বিশেষভাবে সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে চিন্তিত। শক্তিশালী সরকার এক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।


ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট নীতি'
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পার্টনার। ভারতের পূবে তাকাও নীতির সফল বাস্তবায়নের জন্য একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ সরকার অপরিহার্য। হাসিনা সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। 

বর্তমানে সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কিছুটা অনিশ্চিত। তবে বিএনপি-এর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল হলে, এই দিকটাও এগিয়ে থাকা যাবে। 

 

POST A COMMENT
Advertisement