পশ্চিমবঙ্গে ভোটভোট ঘোষণার পর লাগু হয়ে গেল নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। এর আগে কোনও কিছু ঘোষণা হয়ে থাকলে সমস্যা নেই। সেটা সরকার করতেই পারে। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মীদের ডিএ এবং পুরোহিত-ইমামদের ভাতা প্রসঙ্গে এই বার্তাই দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। আর তাঁর কথা থেকেই পরিষ্কার, ভোটের আগে ডিএ এবং ভাতা দেওয়ায় কোনও বাধা থাকল না পশ্চিমবঙ্গ সরকারের।
প্রসঙ্গত, আজ ভোট ঘোষণার ঘণ্টা খানেক আগেই এক্স-এ পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি পোস্টে তিনি জানান, রাজ্যের পুরোহিত এবং মোয়াজ্জেমদের মাসিক ভাতা আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে সংশোধিত হারে এখন থেকে তাঁরা মাসে ২,০০০ টাকা করে পাবেন।
আরও একটি পোস্টে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ বা ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন যে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ROPA ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পেতে শুরু করবেন।
আর ভোট ঘোষণা কিছুক্ষণ আগেই এই দুই পোস্ট করেন মমতা। এক্স পোস্টের মাধ্যমেই ভোটের খেলা ঘোরাতে চেয়েছেন তিনি। এই বিষয়টা নিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্ন করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, এই ঘোষণা বৈধ কি না। তখনই জ্ঞানেশ জানিয়ে দেন, ভোটের তারিখ ঘোষণার আগে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে। তাতে কোনও সমস্যা নেই। ভোট ঘোষণার পরই মডেল কোড অব কনডাক্ট শুরু হয়ে গেল।
কবে ভোট পশ্চিমবঙ্গে?
এ দিন ভোটের দিন ঘোষণা করেন জ্ঞানেশ। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে ২ দফায় ভোট হবে। প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে ২৩ এপ্রিল ভোট হবে। আর ১৪২টি কেন্দ্রে ২৯ তারিখ ভোট ঘোষণা হবে। ভোট গণনা হবে ৩ মে।
বিচারাধীন ভোটারদের কী হবে?
বাংলায় SIR শেষ হয়ে গিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তবে সেই লিস্ট ছিল অসম্পূর্ণ। তাতে ‘বিবেচনাধীন’ ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। আর আজ ভোট ঘোষণা হয়ে গেল।
আর ভোটের দিন ঘোষণার সময় প্রশ্ন করা হয়, এই সব ভোটারদের ভবিষ্যত কী? কমিশনের তরফ থেকে জানান হয়েছে, জুডিশিয়াল অফিসাররা বিচার করছে। যাঁরা যোগ্য তাঁদের নাম ভোটার লিস্টে জুড়ে যাবে।