জ্ঞানের কুমারপশ্চিমবাংলায় এখন চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR। আর এই প্রক্রিয়া নিয়েই আপাতত উত্তপ্ত গোটা রাজ্য। দিকে দিকে চলছে বিক্ষোভ। আর এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের কেউ যাতে হাতে আইন তুলে না নেয়, সেই বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আর কেউ যদি হাতে আইন তুলে নেয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করে রেখেছেন তিনি।
আর কী জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন?
SIR-এ এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। আর এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়ের থেকে শুরু করে প্রতিটি সাব ডিভিশন অফিস, সাব ডিভিশনের ব্লক অফিসে হবে SIR হিয়ারিং।
এই প্রসঙ্গে তারা জানিয়েছে, 'রাজ্য সরকারকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কমিশনকে পর্যাপ্ত কর্মী দিতে হবে। যাতে পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস এবং অন্যান্য জায়গায় হিয়ারিংয়ের কাজ সুষ্ঠুভাবে করা যায়।'
নিরাপত্তা নিয়ে কী দাবি?
এখানেই শেষ না করে সেই চিঠিতে নিরাপত্তা নিয়েও একাধিক দাবি তোলা হয়। সেখানে এসপি এবং ডিএমদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই চিঠিতে বলা হয়, 'প্রতিটি জেলার ডিএম এবং এসপিদের পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী এবং নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হবে যাতে SIR প্রক্রিয়া ঠিক ঠাক চলে।'
পাশাপাশি তাদের আরও দাবি, 'শুনানির সর্বত্র যেন আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকে, পুরো প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠুভাবে চলে, সেটা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং ডিএমদের উপর।'
SIR নিয়ে আরও সতর্ক নির্বাচন কমিশন
পশ্চিমবঙ্গের SIR নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হতে চাইছে কমিশন। তাই তাঁদের তরফ থেকে রাজ্যে আরও ১২ জন রোল অবর্জাভার নিয়োগ করার কথা জানাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। SIR-এর হিয়ারিংয়ের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল ইলেকশন কমিশন। বাংলায় SIR-এর কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হয়, সেই কারণেই এই রোল অবর্জাভারদের নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট রোল অবর্জাভারের সংখ্যা বাড়ল। এখন সংখ্যা ৩৮।'
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানবে কমিশন
ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। প্রথমত, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় যেই ভোটারদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের নাম প্রকাশের দেওয়া হয়েছে নির্দেশ। শুধু তাই নয়, হিয়ারিংয়ে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। আর এই সব দাবি মেনে নিচ্ছে কমিশন বলেই জানা গিয়েছে।