গঙ্গাসাগরেও SIR শুনানিতে হয়রানি ইস্যু তুললেন মমতা, সেতু শিলান্যাস সেরেই...

মুড়িগঙ্গা নদীর উপর প্রস্তাবিত সেতুর শিলান্য়াস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে গঙ্গাসাগর যেতে আর নদীপথে ভাসতে হবে না পুণ্যার্থীদের।

Advertisement
গঙ্গাসাগরেও SIR শুনানিতে হয়রানি ইস্যু তুললেন মমতা, সেতু শিলান্যাস সেরেই...গঙ্গাসাগরে গঙ্গান্ন ও সাগরকন্যার সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর
হাইলাইটস
  • মুড়িগঙ্গা নদীর উপর প্রস্তাবিত সেতুর উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • সোজাসুজি সড়কপথেই পৌঁছে যাওয়া যাবে সাগর দ্বীপ তথা কপিল মুনির আশ্রমে।
  • মুড়িগঙ্গার ব্রিজের বিষয়ে আরও জেনে নিন

মুড়িগঙ্গা নদীর উপর প্রস্তাবিত সেতুর শিলান্য়াস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে গঙ্গাসাগর যেতে আর নদীপথে ভাসতে হবে না পুণ্যার্থীদের। সোজাসুজি সড়কপথেই পৌঁছে যাওয়া যাবে সাগর দ্বীপ তথা কপিল মুনির আশ্রমে।

SIR নিয়ে কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এদিন SIR নিয়েও মুখ খুলেছেন। সেখানে তিনি বলেন,"যে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধিকার ছিল ৭-৮ নম্বর ফর্ম ফিলআপ করার। AI দিয়ে নাম কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদবি বদলে দিলে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপে চলছে।" 

সুনানি চলাকালীন মানুষের দুরাবস্থা নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, "নাকে নল লাগিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিরা হিয়ারিংয়ে যাচ্ছেন, ৮৫-৯০ বছরের মানুষদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, গর্ভবতী মহিলাদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হচ্ছে। কেন তাঁদের এত বছর ভোট দেওয়ার পর নিজেদেরকে নাগরিক প্রমাণ করতে হবে?"

তিনি বলেন,"পদবি পরিবর্তন করা হলে, নামের বানানে পরিবর্তন থাকলেও নাম কেটে বাদ দেওয়া হচ্ছে।" আধার কার্ড থাকলেও তা কেন SIR-এ ডকুমেন্টস হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
 

মুড়িগঙ্গার ব্রিজের বিষয়ে জানুন

মুড়িগঙ্গার উপর এই ব্রিজটি হতে চলেছে  ৪.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু। ব্রিজের দু'দিকে থাকবে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত। সোমবার দুপুর ২টোর পর এই সেতুর শিলান্যাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী চার বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। মোট আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। 

ইতিমধ্যে সেতুর নকশাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।  দায়িত্বে থাকছে নির্মাণ সংস্থা এল অ্যান্ড টি। জানা গিয়েছে, সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে তৈরি করা হবে। শুধু তাই নয়, সেতু নির্মাণে জমির অধিগ্রহণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। গঙ্গাসাগর সেতুর জন্য কাকদ্বীপের অংশে ৭.৯৫ একর এবং কচুবেড়িয়া অংশে ৫.০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণের কাজ খুব শীঘ্রই শেষ করা হবে বলে খবর।  

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সাগরের মাটিতেই দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উদ্যোগে এই সেতু তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের দিকে আর চাতক পাখি হয়ে লাভ নেই, রাজ্য সরকারই নিজের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর সেতু গড়ে তুলবে। তারপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর। অবশেষে শিলান্যাস হল এই সেতুর।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, '২০১১ সালের আগে গঙ্গাসাগরের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত খারাপ। আমরা এই এলাকার ব্যাপক উন্নতি সাধন ঘটিয়েছি। তিনটি হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছে। এবার তৈরি হচ্ছে এই সেতু।'

 

POST A COMMENT
Advertisement